ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’ হেলথ ক্যাম্প নিয়ে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার সেই সুরেই অভিষেককে তোপ দাগলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে তৃণমূল সাংসদকে সমস্ত অভিযোগের জবাব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেবাশ্রয়কে ‘এই সময়ের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি’ আখ্যা দিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত অভিষেকের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিধাননগর পুরনিগমের মাঠে একটি ফুটবল অ্যাকাডেমির অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সেবাশ্রয় শিবির সংক্রান্ত তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন অভিযোগ সামনে আসছে। সেই সব তথ্য ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। শারদ্বতের অভিযোগ, সেবাশ্রয়ে নিয়ম ভেঙে প্রশিক্ষণরত আয়ুষ পড়ুয়াদের দিয়ে চিকিৎসা করানো হতো। ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমতিও নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর। পাশাপাশি নিয়ম ভেঙে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (USG) ও এক্স-রে মেশিন হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যাওয়া, পিসিপিএনডিটি (PCPNDT) আইন লঙ্ঘন এবং বিভিন্ন নার্সিংহোমের উপর ব্লাড টেস্ট করানোর জন্য চাপ সৃষ্টির অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
অভিষেককে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শারদ্বত বলেন, ‘আপনাকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় দিলাম। সাহস থাকলে সামনে এসে সেবাশ্রয় নিয়ে মুখ খুলুন। জনগণের কাছে জবাব দিন।’ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে ক্যাগ (CAG)-এর রিপোর্টে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত মিলেছে বলেও এ দিন দাবি করেছেন শারদ্বত। একটি অস্ত্রোপচারকে একাধিক ভাগে ভাগ করে বিল তৈরি, ভুয়ো চিকিৎসার নথি, অস্তিত্বহীন রোগীর নামে বিল তৈরি-সহ একাধিক অভিযোগ করেন তিনি। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নাম, স্বাক্ষর বা রেজিস্ট্রেশন নম্বরও পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ তাঁর।
অন্য দিকে, সেবাশ্রয় নিয়ে অভিষেককে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও। উলুবেড়িয়ার বাজারপাড়ায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেবাশ্রয়কে ‘এই সময়ের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘বহু মানুষের হাত-পা কেটে বাদ দিতে হয়েছে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের ভয় দেখিয়ে শিবিরে নিয়ে যাওয়া হতো। এমনকী যাঁরা চিকিৎসক নন, তাঁদের দিয়েও কাজ করানো হয়েছে।’ এর পরেই সরাসরি অভিষেককে কটাক্ষ করেন তিনি। ঋতব্রত বলেন, ‘চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার কী প্রয়োজন? সেবাশ্রয় ছিল, সেখানে চিকিৎসা করাতে পারতেন।’
বালির কৈলাশ মিশ্রের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধারের প্রসঙ্গ টেনে ঋতব্রতর অভিযোগ, ‘সেবাশ্রয়ের নামেও কোটি কোটি টাকার ওষুধ দুর্নীতি হয়েছে।’ কৈলাশ মিশ্রকে তিনি ‘সমাজবিরোধী’ আখ্যা দেন। কালো টাকা সাদা করার জন্যও সেবাশ্রয়কে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে জানান, আগামী সপ্তাহে দিল্লি গিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি এই বিষয়ে অভিযোগ করবেন। পাশাপাশি কী ভাবে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, শনিবার বিধানসভায় দাঁড়িয় সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে অভিষেককে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নথিপত্র তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, ‘একটা বড় স্ক্যাম সামনে এসেছে। ভাইপোর সেবাশ্রয় ক্যাম্পের স্ক্যাম।’ এই নিয়ে ইতিমধ্যেই বিষ্ণুপুর থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানান তিনি। তার পরে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘একবার জেলে ঢুকলে আর বেরোতে পারবে না।’ তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই ইস্যুতে অভিষেককে আক্রমণ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতাও।