দিব্যেন্দু সরকার, আরামবাগ
ভোট আসে ভোট যায়। কিন্তু মানুষের দুর্ভোগ আর কমে না। দীর্ঘ দিন ধরে পুরশুড়া থেকে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের ডিহিভুরশুট পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১০ থেকে ১২ কিমি রাস্তার হাল অত্যন্ত খারাপ। পাকা রাস্তা নাকি মাটির রাস্তা, তা বোঝা দায়। মানুষজন মোটর বাইক বা সাইকেলে চেপেও যেতে পারছেন না। এমনই হাল যে, একদিন আগে একটি ১৬ চাকার বড় লরি উেেল্ট যায়। বহু বার ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। এলাকার মানুষজন তিতিবিরক্ত।
হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর-সহ গ্রামীণ এলাকার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত যোগাযোগের এই মাধ্যম আপাতত অচল। এই রাস্তা খারাপ বলে অনেকটাই ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। বার বার আবেদন, আন্দোলন, পথ অবরোধ করেও নিট ফল শূন্য। কেউ কর্ণপাতই করেন না। না প্রশাসন, না পঞ্চায়েত বা জেলা পরিষদ, না পূর্ত দপ্তর। তাই দীর্ঘ সাত-আট মাস ধরে এমনই অচল হয়ে পড়ে আছে পুরশুড়া থেকে ডিহিভুরশুট পর্যন্ত রাস্তা। সারাইয়ের দাবি তোলা হলেও কিছুই হয়নি। তারকেশ্বর থেকে মাঝেমধ্যে ট্রেকার চলে। আগে বাসও চলত। আপাতত বাস চলাচলও বন্ধ। কারণ, রাস্তার যে ছবি, তাতে বাস মালিকরাই আতঙ্কিত। দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে!
এই এলাকার শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা বাপ্পাদিত্য সামন্ত বলেন, 'পুরশুড়া থেকে ডিহিভুরশুট বা উদয়নারায়ণপুরের রাস্তাটির অত্যন্ত করুণ অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরেই এই রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কাদা-জলে ভর্তি হয়ে গিয়েছে। কোনও যানই যেতে পারছে না। এই রাস্তায় একটি বড় ডাম্পার উল্টে গিয়েছে। এছাড়াও নিত্যদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে।'
এই রুটের কুমারচক গ্রামের বাসিন্দা অসিতকুমার মান্না বলেন, 'লজ্জা লাগছে। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ রোড। দুই জেলার মধ্যে একটা সংক্ষিপ্ত যোগাযোগের মাধ্যম। অথচ দীর্ঘদিন বেহাল। সংস্কারের প্রয়োজন আছে। স্থানীয় বিধায়ক বিমান ঘোষকে বলেছিলাম। তিনিও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বর্ষায় কোনও কাজ হবেনা। যা হবে, বর্ষার শেষে দুর্গাপূজার পরে।' ফতেপুর গ্রামের রবীন্দ্রনাথ বাগ বলেন, 'কাদাজলে ভর্তি। এর পরে ভরপুর বর্ষা। এখনই এই অবস্থা, এর পরে রাস্তার আর অস্তিত্বই থাকবে না। বার বার বলা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থাই নেননি কেউ। অথচ, জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।'
যদিও বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, 'আমি জানি, রাস্তার হাল খুবই খারাপ। আগের সরকার সব জগাখিচুড়ি পাকিয়ে বসেছিল। এই রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে খারাপ। আমরা চেষ্টা করছি যাতে পুজোর পরেই রাস্তাটির কাজ শুরু করা যায়।'