সৌমিত্র ঘোষ, বেলুড়
বার রাস্তার ধারে থাকা শতবর্ষপ্রাচীন বটগাছ কেটে মন্দির বানানোর তোড়জোড় শুরু হলো বেলুড়ে। সরকারি রাস্তা দখল করে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে মন্দির বানানোর এই চেষ্টার বিরুদ্ধে স্থানীয়রা অনেকে সোচ্চার হয়েছেন। সোচ্চার হয়েছেন পরিবেশবিদরাও। তাঁরা বিষয়টি বন দপ্তর ও প্রশাসনের নজরে আনায় উদ্যোগী হয়েছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন, রাজ্য সরকার যখন জবরদখল ও রাস্তা আটকে সরকারি সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে, তখন প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ কাজকর্ম হয় কী ভাবে?
জবরদখল ও সরকারি জায়গা দখল করে কোনও ধরনের নির্মাণ কাজের উপরে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে পালাবদলের পরে শিয়ালদহ, যাদবপুর, হাওড়া থেকে শুরু করে বনগাঁ-সহ রাজ্যের অসংখ্য রেল স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রেল। সঙ্গে রাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন জিআরপি ও রেলের নিজস্ব আরপিএফ বাহিনীর সক্রিয়তায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে উচ্ছেদ-বিরোধী যাবতীয় প্রতিরোধ। বালি ও বেলুড়েও রেলের জায়গায় গজিয়ে ওঠা বাজার, দোকান, হোটেল বুলডোজার দিয়ে ভেঙে সাফ করা হয়েছে। এর পরেও বালি পুরসভা এলাকায় বড় রাস্তা ও সরকারি জায়গায় মানুষের পায়ে চলার রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে নানা ধরনের ব্যবসা ও জবরদখল নিয়ে তেমন নড়াচড়া নেই প্রশাসনের।
বালি পুর এলাকার মধ্যে লিলুয়া, বেলুড় ও বালি স্টেশন এলাকাগুলোর বাইরেও তৃণমূল শাসনে শহরের মূল সরকারি রাস্তা জিটি রোড ও গিরিশ ঘোষ রোডজুড়ে প্রচুর অবৈধ দোকান, হোটেল, মাংসের দোকান ও মন্দির ইত্যাদি গড়ে উঠেছে গত ১৫ বছরে। অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রেই দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ অর্থের বিনিময়ে এ সবে মদত জুগিয়েছেন। ফলে, শাসকের রোষে পড়ার আশঙ্কায় চোখ বন্ধ করে থেকেছে প্রশাসনও। এই সব হোটেল, মাংসের দোকান ও মন্দিরগুলির বিরুদ্ধে পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগও উঠেছে একাধিক বার।
বেলুড় ও বালিতে পুরোনো বট, অশ্বত্থ গাছ কেটে তার জায়গায় মন্দির বানিয়ে ব্যবসা চালানোর অভিযোগও উঠেছে সম্প্রতি। বেলুড়ের গিরিশ ঘোষ রোডের ঠাকরুন পুকুর এলাকায় একটি প্রাচীন বটগাছের প্রায় সব ডাল কেটে সেখানে মন্দির বানানোর তোড়জোড় দেখা গিয়েছে। স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, ওই গাছের নীচে মন্দির বানিয়ে রীতিমতো রোজগারের ধান্দা শুরু করেছিলেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলারের স্বামী। পালাবদলের পরে তৃণমূল কাউন্সিলার ও তাঁর স্বামীর দেখা নেই এলাকায়। এ বার সেখানেই গাছ কেটে আরও বড় মন্দির বানানোর কাজ শুরু করেছেন স্থানীয় কিছু যুবক। অনেকেই এর মধ্যে বড়সড় ব্যবসার উদ্দেশ্য দেখতে পাচ্ছেন।
পরিবেশবিদদেরও অভিযোগ, বটগাছটি প্রায় শতবর্ষপ্রাচীন। গাছে অসংখ্য পাখি বাস করত। এ ভাবে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে গাছ কেটে রাস্তা দখল করে মন্দির বানানো হচ্ছে কার স্বার্থে? তাঁরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান বলে জানিয়েছেন। পরিবেশপ্রেমী দিলীপ শাক্যসিংহ বলেন, 'বট, অশ্বত্থ এই গাছগুলো বিশেষ সংরক্ষণের আওতায় পড়ে। বন দপ্তর থেকে নাগরিক সমাজ সবারই দায়িত্ব একে রক্ষা করার। বেলুড়ের গিরিশ ঘোষ রোডের এই শতাব্দীপ্রাচীন গাছটি কী ভাবে কাটা হচ্ছে? কারা কাটছে? বন দপ্তরের অনুমতি আদৌ আছে কি না, সমস্ত কিছুই তদন্ত করে দেখা হোক। আর অবিলম্বে গাছটি কাটা বন্ধ হোক।' এ নিয়ে হাওড়ার বিভাগীয় বনাধিকারিক সুজিতকুমার দাসকে ফোন করা হলেও, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপেও মেসেজ করা হয়েছে। তবে তারও উত্তর মেলেনি।