• মোদীর জেন জ়ি বার্তা থেকে ইস্তফা, মধ্যরাতের বৈঠকেই প্ল্যান সারা?
    এই সময় | ২৭ জুলাই ২০২৬
  • সুদেষ্ণা ঘোষাল, নয়াদিল্লি

    ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)–এর আন্দোলনের চাপের মুখে শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। দিল্লিতে বিজেপি সূত্রের অবশ্য দাবি, ২২ জুলাই, বুধবার মধ্যরাতের গোপন বৈঠকেই স্থির হয়ে গিয়েছিল ধর্মেন্দ্রর ভবিতব্য!

    সূত্রের দাবি, বুধবার মধ্যরাতের গোপন বৈঠকে বিজেপি তথা সরকারের তরফে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং৷ বৈঠকে সঙ্ঘ পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেন আরএসএসের ‘সেকেন্ড ইন কম্যান্ড’ দত্তাত্রেয় হোসবালে, সহ–কার্যবাহ অরুণ কুমার এবং কৃষ্ণ গোপাল৷ সূত্রের খবর, দিল্লিরই একটি গোপন স্থানে আয়োজিত এই বৈঠকে গৃহীত ফর্মুলা মেনে পরদিন মধ্যরাতে ‘জেন জি়’-র জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে যুবসমাজের উদ্দেশে বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷

    শুক্রবার মধ্যরাতে ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে বার্তা দেন মোদী। অন্যদিকে, আন্দোলনকারী সিজেপি–র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সুর নরম করেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং৷ শেষে শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানে সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবতের বার্তা— যুবসমাজকে নির্দেশ দিলে হবে না, তাঁদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের রাস্তা খুঁজতে হবে। সূত্রের খবর, এর মাধ্যমেই সঙ্ঘপ্রধান ছাত্রদের প্রতি সরকারের সঠিক অবস্থান কী হবে, সেটা স্পষ্ট করে দেন৷ আর তার পর, শনিবার দুপুরে এক্স হ্যান্ডেলে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফার কথা ঘোষণা করেন ধর্মেন্দ্র নিজেই৷ সূত্রের খবর, ধর্মেন্দ্রর জায়গায় আপাতত আরএসএস–ঘনিষ্ঠ প্রহ্লাদ যোশীকে বসানো হবে, সেটাও স্থির করা হয়েছিল বুধবার মধ্যরাতের গোপন বৈঠকেই!

    সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ কোনও বৈঠক প্রধানমন্ত্রী মোদী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে হয়। কিন্তু সূত্রের খবর, আলোচ্য ইস্যুর স্পর্শকাতরতা এবং গোপনীয়তার কথা মাথায় রেখেই লুটিয়েন্স দিল্লির একটি গোপন স্থানে মধ্যরাতে বৈঠকটির আয়োজন করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনার সঙ্গে অনেকেই কয়েক বছর আগে কৃষক অসন্তোষের জেরে মোদী সরকারের পিছু হটার মিল খুঁজে পাচ্ছেন৷ সেই সময়েও সঙ্ঘ পরিবারের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে তিনটি বিতর্কিত কৃষি বিল প্রত্যাহার করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী৷

    এ বার নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে সরে গেলেন ধর্মেন্দ্র৷ সূত্রের খবর, কৃষক বিক্ষোভে যে ভাবে সারা দেশ উত্তাল হয়েছিল, সেটা মাথায় রেখেই এ বার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নামা যুবসমাজের সঙ্গে সরকারের সমঝোতার রাস্তায় হাঁটা উচিত, মধ্যরাতের বৈঠকে এই বার্তা তুলে ধরেছিলেন আরএসএস-র তিন শীর্ষ প্রতিনিধি৷ বিজেপি সূত্রের দাবি, প্রাথমিক ভাবে ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগের বিষয়ে সম্মত না হলেও পরে সঙ্ঘ পরিবারের যুক্তিকেই মেনে নেন প্রধানমন্ত্রী মোদী৷ ঠিক হয়, ধর্মেন্দ্রর জায়গায় আপাতত আরএসএস ঘনিষ্ঠ প্রহ্লাদকে শিক্ষামন্ত্রীর চেয়ারে বসিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে৷ পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল করা যেতে পারে৷

    দলীয় সূত্রের দাবি, দল ও সরকারের তরফে ধর্মেন্দ্রকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় শনিবার দুপুরে৷ আধ ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করেন তিনি৷ বিজেপির একটি সূত্রে শোনা গিয়েছিল, সিজেপি–র প্রতিবাদের মুখেও ধর্মেন্দ্র নাকি পদত্যাগ করতে রাজি ছিলেন না, কিন্তু এ দিন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের দাবি একেবারে উল্টো৷ রবিবার মধ্যপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী কৈলাস দাবি করেছেন, ‘ছাত্র রাজনীতির দিন থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানজিকে চিনি। আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই তিনি পদত্যাগ করতে রাজি ছিলেন। দলীয় প্রধানকে জানিয়েওছিলেন সে কথা। কিন্তু দলীয় প্রধান তাঁকে বারণ করেন। পরে পরিস্থিতি বদলালে দল যখন তাঁকে পদত্যাগ করতে বলে, ধর্মেন্দ্র প্রধান এক মুহূর্ত দেরি করেননি। এটাই একজন আদর্শ দলীয় কর্মীর পরিচয়!’ দলীয় সূত্র অবশ্য বলছে, অনিচ্ছা থাকলেও বুধবার গভীর রাতের বৈঠকের পরে ধর্মেন্দ্রর কাছে পদত্যাগ ছাড়া আর কোনও বিকল্প ছিল না!

  • Link to this news (এই সময়)