এই সময়, রায়চক: রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও পর্যটকবান্ধব করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সরকার অনুমোদিত হোটেল, হোমস্টে ও অন্যান্য আবাসনকে একটি মোবাইল অ্যাপের আওতায় আনার কথা জানালেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। পাশাপাশি পর্যটকদের সুবিধার্থে চালু করা হবে একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর। এর মাধ্যমে রাজ্যের যে কোনও পর্যটন কেন্দ্রে কোনও সমস্যায় পড়লে পর্যটকেরা দ্রুত অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে পর্যটন দপ্তর।
রবিবার বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উপলক্ষে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের রায়চকে এক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই ঘোষণা করেন পর্যটনমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিষেবার মান উন্নয়নই সরকারের অগ্রাধিকার। নতুন অ্যাপ চালু হলে পর্যটকেরা সহজেই সরকার অনুমোদিত আবাসনের তালিকা, যোগাযোগের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা সম্পর্কে জানতে পারবেন। অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে।' মন্ত্রী বলেন, 'পর্যটকদের সঙ্গে কোনও ধরনের দুর্ব্যবহার, প্রতারণা বা পরিষেবায় অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। সেই উদ্দেশ্যেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিষেবাকে আরও সহজ ও কার্যকর করা হচ্ছে।'
বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ, ব্লু কার্বন অর্থনীতির গুরুত্ব এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বক্তারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ম্যানগ্রোভ অরণ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা শাসক অভিষেক তিওয়ারি-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিক ও পরিবেশবিদরা। অনুষ্ঠান থেকে সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন শঙ্কর ঘোষ। তিনি বলেন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনকে সামনে রেখেই সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।'