• মিউটেশনের জন্য গত এক দশকে আদায় প্রায় ১০০ কোটি, পরবর্তী শুনানি বুধবার
    এই সময় | ২৭ জুলাই ২০২৬
  • অমিত চক্রবর্তী

    জমি–বাড়ি বা অন্য সম্পত্তি মিউটেশনের জন্য সার্ভিস চার্জের নামে গত এক দশকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিধাননগর পুরনিগমের বিরুদ্ধে। রাজ্যের আইন অনুযায়ী, কোনও পুরনিগম এ ভাবে টাকা তুলতে পারে না। এই অভিযোগে বিধাননগর পুরনিগমের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা চলছে। আগামী বুধবার বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে পরবর্তী শুনানি।

    আদালতের নির্দেশে সম্প্রতি এ নিয়ে একটি রিপোর্ট দিয়েছে পুরনিগম। খতিয়ান দিয়ে তাদের দাবি, নাগরিক পরিষেবার জন্য তারা এই টাকা খরচ করেছে। কিন্তু আইন মেনে টাকা তোলা যায় কি না, সে ব্যাখ্যায় পুরনিগম যায়নি। উল্টে নিজেদের আর্থিক দুরবস্থার ব্যাখ্যা দিয়েছে। এ–ও বলেছে — এত দিন ধরে তারা টাকা নিয়েছে, বছর বছর অডিটও হয়েছে। তবু বিষয়টিকে 'বেআইনি' বলে সতর্ক করা হয়নি। তা ছাড়া, এখন সম্পত্তি কর বাবদ যে টাকা নেওয়া হয়, তা ২০০৫–'০৬ সালে নির্ধারিত। বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এর হার সংশোধন করা হয়নি। সার্ভিস চার্জের নামে পুরনিগম আদৌ টাকা নিতে পারে কি না, সে ব্যাপারে আদালতের রায় দেওয়ার কথা বুধবারের শুনানিতে।

    তৃণমূল আমলে বিধাননগর–সহ রাজ্যের প্রায় সব পুরসভা ও পুরনিগম (কলকাতা বাদে) মিউটেশনের জন্য সার্ভিস চার্জের নামে নাগরিকদের থেকে মোটা টাকা আদায় করে বলে অভিযোগ। অতীতে একাধিক মামলায় তৃণমূল সরকারই লিখিত ভাবে জানিয়েছে, এ ভাবে টাকা তোলার এক্তিয়ার পুরনিগম বা পুরসভার নেই। তারপরেও এই প্রবণতায় রাশ পরানো যায়নি। মিউটেশনের জন্য দু'তিনশো টাকা লাগলেও পুরসভা বা পুরনিগমের নিয়মভঙ্গের কারণে অনেক বেশি খরচ হয়েছে মালিকদের বড় অংশের।

    বিধাননগর পুরনিগমের বিরুদ্ধে বেআইনি অর্থ আদায়ের পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে যান নবীন আগরওয়াল–সহ একটি বহুতলের বেশ ক'জন আবাসিক। তাঁদের বহুতলের ফ্ল্যাটের মাপ অনুযায়ী গড়ে এক লক্ষ টাকা দাবি করে পুরনিগম। মামলায় আগের সরকার মেনে নেয়, এ ভাবে টাকা নেওয়া বেআইনি। তারপরেও দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলে, এর মধ্যে সরকারই বদলে যায়। বিজেপি সরকারও আগের সরকারের অবস্থান বজায় রাখে। এই পরিস্থিতিতে গত এক দশকে কত টাকা তোলা হয়েছে, বিধাননগর পুরনিগমের কাছে তার হিসেব চান বিচারপতি বসু চৌধুরী। কোর্টের যুক্তি, এ ভাবে তোলা টাকার হিসেব নেওয়া জরুরি।

    পুরনিগমের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, ২০১৬–য় সার্ভিস চার্জ নেওয়া শুরু হয়। হাইকোর্টে অবশ্য ২০১৮–'১৯ থেকে গত অর্থবর্ষ পর্যন্ত হিসেব দেওয়া হয়েছে। সেখানে ২২ হাজার ১২৬ জনের থেকে ৭৯ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা তোলার কথা জানানো হয়েছে। জল সরবরাহ, জঞ্জাল সাফাই, রাস্তা সারাই, পার্ক রক্ষণাবেক্ষণের মতো নাগরিক পরিষেবার জন্য ২০২২–'২৩ থেকে ২০২৪–'২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ৩৯৩ কোটি টাকা খরচ হয় বলেও রিপোর্টে উল্লেখ। তবে আইনজীবীদের বক্তব্য, ২০১৬ থেকে সার্ভিস চার্জের হিসেব না দেওয়া হলেও ওই দুই অর্থবর্ষেও মোটা টাকা তোলা হয়েছে। সেই হিসেবে টাকার অঙ্ক ১০০ কোটির কাছাকাছি বলে অনুমান।

  • Link to this news (এই সময়)