এই সময়: ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে মিছিল ঘিরে ধর্মতলায় শুক্রবারের অশান্তিতে ধৃত আফরোজে়র সঙ্গে বিদ্রোহী তৃণমূলের নেতাদের ছবি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লার সঙ্গে আফরোজে়র ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ‘এই সময়’ সেই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি। ফিরহাদ হাকিম ও আব্দুল খালেক মোল্লার সঙ্গে আফরোজে়র ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়তেই কালীঘাট তৃণমূলের সমালোচনার মুখে পড়েছে বিদ্রোহী শিবির।
বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বিদ্রোহী শিবিরের উদ্দেশে বলেছেন, ‘ওরা ভালো তৃণমূলের ভালো ছেলেরা। ভালো নেতার সঙ্গে তাদের দেখা যাচ্ছে। এদের দায় আমাদের উপরে চাপাচ্ছেন কেন? এরা বালিশের লোকজন। ভালো তৃণমূলে যাঁরা গিয়েছেন, তাঁরা হয়তো ভাবছেন, এদের নিয়ে ঘুরলে আরও ভালো হবে।... এই কারণে শুক্রবারের কর্মসূচিতে যোগদান না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আমাদের নেত্রী।’ এই বিষয়ে ফিরহাদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লার বক্তব্য, ‘আমি ওকে (আফরোজ়) চিনি না। তৃণমূলের কোনও সক্রিয় কর্মী নয়, সমর্থক হতে পারে। ইলেকশনের সময়ে অনেকে পাশে দাঁড়িয়ে থাকে, আমি তো সবাইকে সরিয়ে দিতে পারি না। কেউ অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে গুণ্ডা দমন আইন প্রয়োগ হবে। আইন আইনের পথে চলবে।’
ফিরহাদ হাকিম ও আব্দুল খালেক মোল্লার সঙ্গে আফরোজে়র ছবি নিয়ে তৃণমূলের কালীঘাট শিবির বিদ্রোহী শিবিরকে টার্গেট করায় পাল্টা কড়া প্রতিক্রিয়া দেয় বিদ্রোহী নেতৃত্ব। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘জনপ্রতিনিধিদের পাশে বহু মানুষ এসে দাঁড়ান। অনেকে মোবাইলে ছবি তোলেন। সবার পূর্ব ইতিহাস চেক করা তখনই সম্ভব নয়। বেলেঘাটার বিধায়কের ছায়াসঙ্গী জনৈক শক্তি তো সদ্য জেলের ভাত খেয়ে বেরিয়েছেন। কেউ অপরাধ করলে তার কঠোর সাজা হওয়া উচিত।’ তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে এই অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের লড়াইয়ের মধ্যে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত রবিবার বলেছেন, ‘তৃণমূলের সঙ্গে ধৃতদের সম্পর্ক রয়েছে কি না, বড় বিষয় নয়। মূল কথা হলো, গুণ্ডা দমন আইন লঙ্ঘন করা হলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।’
প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, শুক্রবার কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ছাত্র পরিষদ ও যুব কংগ্রেসের পৃথক মিছিল হয়েছিল। ধর্মতলায় অশান্তির সঙ্গে কংগ্রেসের কোনও যোগসূত্র না থাকলেও কয়েক জন কংগ্রেস কর্মীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য। তাঁর প্রশ্ন, ‘কেন নিরপরাধ কংগ্রেস কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে?’ এসএফআই–র রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেছেন, ‘কলকাতা জুড়ে উইচ–হান্টিং শুরু হয়েছে। কেউ অপরাধ করেছে কি না, তার বিচার কোর্ট করবে। যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরা ছাত্র–জনতার অংশ।’