• NEET-অশান্তির নেপথ্যে কি বিদেশি শক্তি? ইঙ্গিত শুভেন্দুর
    এই সময় | ২৭ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: গত শুক্রবার নিট–এর প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে কলকাতায় সংগঠিত মিছিলে বিশৃঙ্খলা তৈরির পিছনে বিদেশি শক্তির মদত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তদন্তকারীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের সোনাচূড়ার শহিদ মিনারে প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে এসে জানান তিনি।

    তবে মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিত, শুক্রবারের মিছিলে সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় ছাত্র–ছাত্রীরা কোনও ভাবেই যুক্ত নন। তিনি বলে‍ন, ‘ওটা বামেদের মিছিল ছিল না। স্বঘোষিত ককরোচ পার্টির মিছিল ছিল। পরে বামেরা সেখানে যুক্ত হয়। নিট আন্দোলনের সঙ্গে যাঁরা ছি‍লেন, তাঁরা এই ঘটন‍ায় কো‍নও ভাবেই যুক্ত নন। আমরা ভালো করে খোঁজ নিয়ে দেখেছি।’ নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ধর্মতলায় ওই মিছিলে পুলিশ ও সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় এ দিন আরও তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফলে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪। এর আগে শনিবার পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ধৃতদের মধ্যে কেউই ছাত্র নন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    তা হলে কারা মিছি‍ল থেকে হামলা চা‍লিয়েছিল সাংবাদিকদের উপরে? তাতে বিদেশি মৌলবাদি শক্তির হাত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। শুভেন্দুর কথায়, ‘যারা সাংবাদিকদের উপরে হামলা চা‍লিয়েছে, তারা বিদেশি শক্তির মদতপুষ্ট হতে পারে।’

    সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় ধৃতদের এক জনের সঙ্গে সরাসরি তৃণমূলের যোগ পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা এ দিন মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে তিনি বলে‍ন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস তো জামাতিদের পার্টি। ফলে জামাতির সঙ্গে যোগ থাকবে সেটাই স্বাভাবিক।’ তাঁর সংযোজ‍ন, ‘আন্দোলনের নামে যারা গুন্ডাগিরি করেছে তারা জামাত, মৌলবাদী। ভারতবর্ষকে তারা দুর্বল করতে চায়, অশান্ত করতে চায়। গুন্ডাদমন আইনের মাধ্যমেই ওদের দমন করা হবে।’

    কালীঘাট তৃণমূলের অবশ্য দাবি, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার জন্য নতুন এই গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করা হবে। রাজ্যসভার সাংসদ, কালীঘাট তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন এক্স হ্যান্ডলে রবিবার লেখেন, ‘ইডি, সিবিআই-সহ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে যে ভাবে বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে ও চাপে রাখতে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, ঠিক তেমনই পশ্চিমবঙ্গের নতুন গুন্ডাদমন আইনকে ব্যবহার করা হবে।’

    মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতেই প্রশ্ন ওঠে মৌলবাদীরা বাংলাকে নিশানা করল কেন? বিষয়টি ব্যাখ্যা করে শুভেন্দু জানান, এমন কিছু পদক্ষেপ বাংলার বিজেপি সরকার নিয়েছে যা মৌলবাদীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘গত দশ সপ্তাহ ধরে রাজ্যে বিজেপির রাষ্ট্রবাদী সরকার চলছে। তারা যে সিদ্ধান্তগুলো আইনি ভাবে কার্যকর করতে চেয়েছে, সেই যন্ত্রণা থেকে এই অসভ্যতামি করা হয়েছে।’ সেই সরকারি সিদ্ধান্তগুলির তালিকা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘খারিজি মাদ্রাসার রেজিস্ট্রেশন নিয়ে তদন্ত চলছে। তাই ওদের রাগ হয়েছে। ওদের অনেকে অবৈধ ওবিসি সার্টিফিকেট পেয়েছিল। হাইকোর্ট বাতিল করে দিয়েছে। আমরা হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করেছি। ওদের রাগ হয়েছে। ১৯৫০–এর পশু হত্যা আইন কার্যকর হয়েছে। তাতেও ওদের রাগ হয়েছে। সাউন্ড পলিউশন নিয়ে কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে। সেটাও ওদের রাগের কারণ।’

    পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবারের মিছিলে অশান্তি পাকানোর জন্য রবিবার যে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের নাম শাহবাজ় খান(৩৪), মহম্মদ সলমন হুসেন (২৯), এবং মহম্মদ জোহিরুদ্দিন মাল (৩২)। শাহবাজ় কড়েয়া, সলমন রাজাবাগান এবং জোহিরুদ্দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজয়গঞ্জের বাসিন্দা। ধৃত মোট ১৪ জনকে রবিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হয়। তাঁদের দু’দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত ১৪ জনের মধ্যে চার জনের পূর্ব অপরাধের ইতিহাস রয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)