• মৃত-নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারের পাশে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী,তুলে দিলেন ক্ষতিপূরণ চেক
    News18 বাংলা | ২৭ জুলাই ২০২৬
  • : শংকরপুর মৎস্য বন্দর থেকে সমুদ্রে মাছ শিকারে যাওয়া ট্রলার দুর্যোগের কবলে পড়ে। তাতে মারা যায় বেশ কিছু মৎস্যজীবী এবং ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে আরও কয়েকজন মৎস্যজীবী। এই নিখোঁজ ও মৃত মৎস্যজীবীর পরিবারের পাশে অভিভাবকের ভূমিকায় দাঁড়াল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে দাঁড়িয়ে থেকেই মৃত ও নিখোঁজ মৎস্যজীবী পরিবারদের হাতে আর্থিক সাহায্য এবং ঘোষণা মতো সরকারি চাকরির প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিলেন জেলা প্রশাসনকে। রবিবার বিকেলে রামনগর বিডিও অফিসে ওই মৎস্যজীবী পরিবারদের আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    চলতি মাসের ২ তারিখ শঙ্করপুর থেকে মা কালী নামের একটি ট্রলার গভীর সমুদ্রে ইলিশ মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে বের হয়। কিন্তু ওই সময় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকায়, মাছ শিকারে বের হওয়ার পাঁচ দিন পর থেকে ট্রলাটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুশ্চিন্তায় পড়ে মৎস্যজীবী সংগঠন ও ঐ ট্রলারে থাকা মৎস্যজীবী পরিবারের মানুষজন। তারপর থেকেই শুরু হয় তল্লাশি। ভারতীয় উপকূল রক্ষা বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের যৌথ তল্লাশি অভিযান চলে। দীর্ঘ তল্লাশির পর বকখালি থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে গভীর সমুদ্রে ডুবন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় দুর্ঘটনাগ্রস্থ মা কালী ট্রলারটিকে। এরপর ক্রমে ক্রমে মৎস্যজীবীদের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এখনও পর্যন্ত মোট ১৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হলেও বাকি দুইজনের খোঁজ চলছে।

    ১৪ জন মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার হলেও ১৩ জনকে শনাক্ত করা গিয়েছিল। এই ঘটনার পর বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মৎস্যজীবীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও চাকরির কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইমতো ২৬ জুলাই রবিবার বিকেলে রামনগর বিডিও অফিসে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ওই অনুষ্ঠানে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন মৎস্যজীবী পরিবারদের হাতে। ওড়িশার তিন মৎস্যজীবীর পরিবার-সহ সকলের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও এ রাজ্যের ১৩ জন মৎস্যজীবী পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনকে। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান মৎস্যজীবীদের পাশে রয়েছে রাজ্য মৎস্য দফতর। যা বিগত সরকারের আমলে হয়নি বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মৃত্যুর কোনও আর্থিক ক্ষতিপূরণ হয় না। যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আছে তখন ঈশ্বরের বিশ্বাস ছাড়া আর কিছু করার থাকে না। মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবার অভিভাবক হারা হলেও রাজ্য সরকার অভিভাবক হয়ে সকলের পাশে রয়েছি।” এ দিনের সহায়তা প্রধান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী অরূপ দাস, রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল, জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার-সহ অন্যান্যরা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)