• ‘বিক্ষোভ-আন্দোলন হলেই লাঠি চালানো যায় না...’, যন্তর মন্তরের ঘটনায় মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের
    এই সময় | ২৭ জুলাই ২০২৬
  • Big Breaking: যন্তর মন্তরের আন্দোলনে পড়ুয়াদের উপর পুলিশের বিরুদ্ধে নির্বিচারে লাঠি চার্জের অভিযোগ। আন্দোলনকারীদের দাবি, ২০ জুলাই শান্তিপূর্ণ জমায়েত হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তাঁদের উপর লাঠি চালায়। শুধু আন্দোলনকারীরাই নয়, বিরোধী দলের নেতারাও পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন। উক্ত ঘটনার নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্ত, দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা পর্যালোচনা এবং আহতদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে শীর্ষ আদালতে একগুচ্ছ মামলা দায়ের করা হয়। যন্তর মন্তরে ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ অভিযানে লাঠি চার্জ ও দায়ের হওয়া একগুচ্ছ মামলার প্রসঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের। সোমবার শীর্ষ আদালত বলে, ‘বিক্ষোভ বা আন্দোলন হলেই লাঠি চালানো যায় না।’ দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ সংক্রান্ত আবেদন প্রসঙ্গে এই মন্তব্য।

    NEET-সহ সর্বভারতীয় বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের সময়ে পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে এ দিন সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়। শুনানিতে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। শুধুমাত্র আন্দোলন হচ্ছে বলেই লাঠিচার্জ বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগকে ন্যায্য বলা যায় না।

    শুনানির সময়ে প্রধান বিচারপতি মৌখিকভাবে বলেন, ‘যদি কোনও আন্দোলন শান্তিপূর্ণ এবং আইনসম্মত হয়, তা হলে তা দমন করার জন্য পুলিশের বলপ্রয়োগের পক্ষে কোনও যুক্তি থাকতে পারে না।’ আদালত জানায়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিবাদের অধিকার স্বীকৃত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে সেই অধিকার অযথা খর্ব করা যায় না।

    সুপ্রিম কোর্টে দু’টি পৃথক আবেদন দাখিল করা হয়েছে। আবেদনকারীদের অভিযোগ, প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবকদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF) সদস্যরা অযৌক্তিকভাবে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছেন।

    জনস্বার্থ মামলায় (PIL) সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও CAPF আধিকারিকদের বিরুদ্ধে FIR দায়েরের নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ তদন্তেরও আবেদন জানানো হয়েছে।

    মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এ দিন কেন্দ্র সরকার, দিল্লি পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নোটিস জারি করে তাদের বক্তব্য জানাতে বলে। আদালত জানিয়েছে, অভিযোগগুলি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত শুনানি হবে। তবে একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ আরও জানিয়েছে যে, অন্যান্য বিচারাধীন আবেদনের পাশাপাশি, বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েকজন পুলিশকর্মীর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে দায়ের করা একটি পৃথক আবেদনেরও শুনানি করবে তারা।

    শুনানির সময়ে আবেদনকারীদের তরফে আন্দোলনের সময়কার ভিডিয়ো ফুটেজের প্রসঙ্গ উঠলেও আদালত জানায়, তারা কেবল ভিডিয়ো দেখে সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী নয়। আদালত বলেছে, ‘লিখিত নথি, তথ্য এবং আইনি যুক্তির ভিত্তিতেই বিষয়টি বিচার করা হবে।’

    NEET প্রশ্নফাঁস এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে ছাত্র-যুবকদের বিক্ষোভ চলছে। দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনকারীদের দাবি, শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস এবং জোরপূর্বক আটক করা হয়। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনও আন্দোলন বা বিক্ষোভ চললেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুলিশি বলপ্রয়োগকে বৈধ বলা যাবে না; প্রতিটি ক্ষেত্রে সংবিধানপ্রদত্ত নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

    আদালত বলেছে, শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে বিক্ষোভ করা সংবিধান স্বীকৃত একটি মৌলিক অধিকার। শুধুমাত্র আন্দোলন হচ্ছে বলেই পুলিশি লাঠিচার্জ বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগকে ন্যায্য বলা যায় না।

    NEET-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে হওয়া ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে এই শুনানি হয়।

    দুটি পৃথক আবেদনে দিল্লি পুলিশ ও CAPF-এর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের বিচার চাওয়া হয়েছে।

    কেন্দ্র সরকার, দিল্লি পুলিশ এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নোটিস দিয়ে তাদের জবাব তলব করেছে।

    আদালত জানিয়েছে, শুধুমাত্র ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। লিখিত নথি, তথ্য-প্রমাণ এবং আইনি যুক্তির ভিত্তিতেই বিষয়টি বিচার করা হবে।

    তাঁদের দাবি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ এবং জোরপূর্বক আটক করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।

    দিল্লি পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশ প্রশাসনের ক্ষমতার সীমা এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের ভারসাম্য নির্ধারণে এই পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হতে পারে।

  • Link to this news (এই সময়)