Big Breaking: NEET-UG প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে যন্তর মন্তরের আন্দোলনের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। দিল্লির পাশাপাশি বিহারেও এই একই ইস্যুতে রাস্তায় নামে পড়ুয়ারা। বিহারে ছাত্র বিক্ষোভে AK-47 রাইফেল থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। AK-47 রাইফেল হাতে ধরা পুলিশকর্মীর ভিডিয়ো ভাইরাল হতে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। বিষয়টি নজরে আনা হলে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করে বিহার পুলিশ। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, ছাত্র বিক্ষোভে AK-47 থেকে গুলি চালানোর ঘটনায় রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ কুমার ঝাঁ এখন সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন।
কোথায় ঘটেছে এই ঘটনা?
ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের সিওয়ান (Siwan) জেলায়। গত ২৫ জুলাই 'বিহার বন্ধ'-এর সময় ছাত্র সংগঠনগুলির বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ বাঁধে। সেই সময়s এক পুলিশকর্মীকে হাতে AK-47 নিয়ে গুলি চালাতে দেখা যায় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেউ সেই দৃশ্য মোবাইলে রেকর্ড করেন। পরে ভিডিয়োটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সাসপেন্ড অভিযুক্ত পুলিশকর্মী
ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পরে বিহার পুলিশ সদর দপ্তর বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর নাম অভিষেক প্যাটেল। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনজন গুলিবিদ্ধ, কিশোরের গলায় লাগে বুলেট
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গুলিতে তিনজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ১৫ বছরের মহম্মদ আরিফ। পরিবারের দাবি, দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময়ে তাঁর গলায় গুলি লাগে। পরে পাটনার জয়প্রভা মেদান্তা হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে বুলেট বের করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। অন্য দুই আহতের অবস্থাও স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
রাজ্যজুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
দিল্লির ‘চলো সংসদ’ অভিযানের অনুকরণেই ‘বিহার বনধ’ নামে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজ্যের একাধিক জেলায় ছাত্র সংগঠনগুলি পথে নেমে বিক্ষোভ দেখায়। বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী পাটনায় জমায়েত করে গান্ধী ময়দানের উদ্দেশে মিছিল শুরু করে। এ ছাড়া রাস্তা অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কয়েকটি এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষেরও খবর আসে। তবে গুলি চালানোর খবর আসতেই ছড়ায় চাঞ্চল্য।
রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে
এই ঘটনার পরে বিরোধীরা রাজ্য ও কেন্দ্র—উভয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, দিল্লিতে পেলেট গান এবং বিহারে AK-47 ব্যবহার করে ছাত্রদের দমন করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, তরুণদের প্রতি সরকারের মনোভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একইসঙ্গে কে পেলেট গান ও গুলি চালানোর অনুমতি দিয়েছিল সেই তথ্য জানানোর দাবিও তোলেন।
তদন্তে নজর
বিহার পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ভাইরাল ভিডিয়োর সত্যতা, গুলি চালানোর পরিস্থিতি এবং পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা—সব দিকই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে যে, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার পুলিশের প্রোটোকল মেনে করা হয়েছিল কি না এবং আরও কোনও শাস্তিমূলক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন আছে কি?। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।