রাতের খাবার খেয়েই শরীরে অস্বস্তি। বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মৃত্যু দশম শ্রেণির ছাত্রের। রবিবার রাতের এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল বীরভূমের সিউড়িতে। মৃত ছাত্রের নাম মৈনাক দাস (১৬)। পরিবারের অভিযোগ, ভুল ইনজেকশন দেওয়া হয় মৈনাককে। এর পরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘সবই নিয়ম মেনে হয়েছে। নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছুই করা হয়নি। বাকিটা তদন্ত সাপেক্ষ। আমরা সব সময় সহযোগিতা করব।’
মৈনাক দাস সিউড়ির মালিপাড়ার বাসিন্দা। বীরভূম জেলা স্কুলের দশম শ্রেণির পড়ুয়া। রবিবার রাতে খাবার খাওয়ার পর থেকে অসুস্থ হতে শুরু করে সে। এর পরেই রাত ১টা নাগাদ তাকে ভর্তি করা হয় সিউড়ির এক বেসরকারি মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালে। অভিযোগ, সেখানেই ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয় তার।
পরিবারের লোকজনের দাবি, ভর্তি করার সময়ে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটেই হাসপাতালে ঢুকে ছিল ওই ছাত্র। প্রাথমিক চিকিৎসা পরে তার শারীরিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে ওয়ার্ডে দেওয়া হয়। গভীর রাতে মৈনাককে একটি ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার শরীরে অস্বস্তি হতে শুরু করে বলে অভিযোগ। বেডে শুয়েই কার্যত ছটফট করতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
এ দিকে এর পরেই হাসপাতালে কর্তব্যরত এক মহিলা চিকিৎসক মৈনাকের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। মৈনাকের দাদা চন্দন দাসের কথায়, ‘পুরোপুরি ভুল ট্রিটমেন্টে ভাই চলে গেল। এখানে আনার পরেও যে বেডে শুয়েছিল, কথা বলেছে। একটা ইনজেকশন দিতেই সব শেষ। তখনই ও মারা গিয়েছে। ডাক্তাররা স্বীকার করছে না। দেড় দু’ঘণ্টা পরে জানায়। এমনকী সেই সময়ে হাসপাতালে যে মহিলা ডাক্তার ছিলেন, আমাদের এই বলে হুমকি দেন যে, বেশি কথা বললে শ্লীলতাহানির মামলায় ফাঁসিয়ে দেবেন।’
অভিযোগ, এই ঘটনায় রোগীর বাড়ির লোক ও প্রতিবেশীরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন সিউড়ি থানার আইসি ও পুলিশ। সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
বেসরকারি ওই হাসপাতালের কর্ণধার সব্যসাচী সাহা বলেন, ‘ভোর ৪টে নাগাদ খবর আসে আমার কাছে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আসি। প্রাথমিক ভাবে আরএমও এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের কাছ থেকে আমরা যা জানতে পেরেছি, ১টা ২০ মিনিটে রোগীকে ভর্তি করানো হয়। শ্বাসকষ্ট ছিল, পেটে অস্বস্তি, এক দু’বার বমিও হয়েছে। যা যা করণীয় সবই করা হয়েছে আমাদের তরফে। স্যালাইন দেওয়া হয়েছে, অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। তাতে পেশেন্ট কিছুটা স্থিতিশীল হতে শুরুও করে। বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলেই অবজ়ারভেশনের জন্য উপরে ওয়ার্ডে শিফ্ট করা হয়। ওয়ার্ডে শিফ্ট করার পরে ব্লাড প্রেসার ফল করতে থাকে পেশেন্টের। তারও যা প্রাথমিক চিকিৎসা, সবই করা হয়েছে। যে কোনও মৃত্যুর ঘটনাই খুবই দুঃখজনক। আমরাও পরিবারের সঙ্গে সমব্যথী। তবে ইনজেকশন যা দেওয়া হয়, নর্মস-এর মধ্যেই পড়ে। পেশেন্টের সম্ভবত ফুড অ্যালার্জির হিস্ট্রি আছে। শ্রাবণ মাসের জন্য দেওঘর গিয়েছিল। দু’দিন আগে দেওঘর থেকে ফিরে আসে। আমরা সবই নিয়ম মেনে করেছি। কোনও নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছুই করা হয়নি। বাকিটা তদন্ত সাপেক্ষ।’
মৈনাক দাস কে এবং কী ঘটেছিল তার সঙ্গে?
বীরভূম জেলা স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র এবং সিউড়ির মালিপাড়ার বাসিন্দা, রাতের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের মূল অভিযোগ কী?
পরিবারের অভিযোগ, ভুল ইনজেকশন দেওয়ার পর পরই তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী বলছেন?
কর্তৃপক্ষের দাবি, সমস্ত চিকিৎসা নিয়ম মেনেই করা হয়েছে এবং রোগীর সম্ভবত ফুড অ্যালার্জির পাস্ট রেকর্ড রয়েছে।
মৃতদেহ এখন কোথায় পাঠানো হয়েছে?
ময়নাতদন্তের জন্য দেহ সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মহিলা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছে?
পরিবারের অভিযোগ, রোগীর এ ভাবে মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন করলে ওই চিকিৎসক তাদের শ্লীলতাহানির মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন।