মহানন্দার গ্রাসে মালদহ! হু হু করে বাড়ছে জল, বাড়ি ছেড়ে ফ্লাড শেল্টারে ভিটেমাটি হারা শতাধিক পরিবার
News18 বাংলা | ২৭ জুলাই ২০২৬
: টানা ভারী বৃষ্টির জেরে দ্রুত বাড়ছে মহানন্দা নদীর জলস্তর। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মালদহ শহরের নদীতীরবর্তী সংরক্ষিত এলাকায়। মহানন্দার জল ঢুকে পড়েছে একাধিক বাড়িতে। ফলে ইংরেজবাজার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নদীতীরবর্তী এলাকার শতাধিক পরিবার ঘর ছেড়ে ফ্লাড শেল্টারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এলাকায় কার্যত বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসন ও বাসিন্দাদের মধ্যে। ফ্লাড শেল্টারগুলিতে ঠাসাঠাসি অবস্থায় ত্রিপল টাঙিয়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন দুর্গতরা।
তাঁদের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্ত সরকারি ত্রাণ বা খাদ্যসামগ্রী পৌঁছয় নি। আর্থিক অনটনের মধ্যেও নিজেদের উদ্যোগেই খাবারের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। মিশনঘাট এলাকার বাসিন্দা বাসন্তী ঘোষ বলেন, “প্রতি বছর মহানন্দার জল বাড়লেই আমাদের বাড়িঘর প্লাবিত হয়। এবারও বাড়িতে জল ঢুকে যাওয়ায় ফ্লাড শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছি। বয়সের কারণে খুব কষ্ট হচ্ছে। সরকারের কাছে স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছি।” স্থানীয় বাসিন্দা কৌশিক সরকার জানান, “মহানন্দার জল বাড়লেই নদীতীরবর্তী সংরক্ষিত এলাকার প্রায় এক হাজার মানুষ সমস্যায় পড়েন। বর্তমানে শুধু ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই প্রায় ৭০টি পরিবার ফ্লাড শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে। দুর্গতদের দ্রুত সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, “প্রতিবছরই নদীর তীরবর্তী ২, ৮, ৯, ১২, ১৩, ২০ ও ২১ ওয়ার্ড প্লাবিত হয়। নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখেই গত বছর ফ্লাড শেল্টার তৈরি করা হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী মানুষ সেখানে আশ্রয় নিচ্ছেন। প্রশাসনিক রিকুইজিশন পেলেই প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠানো হবে। পাশাপাশি নদীতীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী সকলকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।”
জলপথ ও সেচ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার তিনটি প্রধান নদীর জলস্তরই বর্তমানে বিপদসীমার কাছাকাছি রয়েছে। মহানন্দার জলস্তর ১৯.৭৮ মিটার, যা বিপদসীমার থেকে ১.২২ মিটার নিচে। গঙ্গার জলস্তর ২৩.৪৯ মিটার এবং ফুলহারের জলস্তর ২৫.৬৭ মিটার। যদিও ফুলহারের জল কমতে শুরু করেছে, গঙ্গা ও মহানন্দার জল বাড়ছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে নদীতীরবর্তী এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।