শিশুদের জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ! সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১ টার মধ্যে বাড়ছে শিশুমৃত্যুর ঘটনা
News18 বাংলা | ২৭ জুলাই ২০২৬
সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা নদী, খাল ও অসংখ্য পুকুরে ঘেরা। তাই জলাশয়ের আধিক্যের কারণে এখানে শিশুদের জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে ঘটে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, সুন্দরবনের ১৯টি ব্লকে জলে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। এই পরিস্থিতিতে জল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সাগরে আয়োজন করা হল বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচির।
দীপাঞ্চল সাগর ব্লকের সুন্দরবন জনকল্যাণ সংঘ বিদ্যানিকেতন-এ অনুষ্ঠিত হয় এই সচেতনতা শিবির। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পরিসংখ্যান অনুযায়ী অধিকাংশ শিশুর জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে। এই সময়ে অধিকাংশ অভিভাবক কর্মব্যস্ত থাকায় শিশুদের উপর নজরদারি কম থাকে। তাই একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু বাবা-মায়ের নয়, পরিবারের অন্যান্য সদস্য, প্রতিবেশী, বিদ্যালয় এবং গোটা সমাজেরও। বিশেষজ্ঞরা জানান, জলে ডোবার পর শিশুকে নিয়ে ঝাঁকাঝাঁকি বা কুসংস্কারাচ্ছন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করলে বিপদ আরও বাড়তে পারে। বরং দ্রুত শিশুর শরীর গরম রাখার ব্যবস্থা করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে জরুরি। অনেক ক্ষেত্রেই জলে ডোবা শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
এছাড়া গ্রামীণ এলাকায় এখনও জলে ডোবার ঘটনাকে ঘিরে নানা কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে প্রথমে ওঝা বা গুনিনের শরণাপন্ন হন, যার ফলে মূল্যবান সময় নষ্ট হয় এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ময়নাতদন্ত না হওয়ায় এসব মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যানও নথিভুক্ত হয় না। এই প্রেক্ষাপটে চাইল্ড ইন নিড ইনস্টিটিউট (CINI)-এর উদ্যোগে সাগরে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা ও পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রশাসনের আধিকারিক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।