গাড়ি থেকে নামতেই উঠল জিন্দাবাদ স্লোগান। NDA সাংসদেরা এগিয়ে এসে রীতিমতো অভ্যর্থনা করে নিয়ে গেলেন সদ্য মন্ত্রিত্বত্যাগী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। মাথায় পরিয়ে দেওয়া হলো পাগড়িও। যুদ্ধ জয় শেষে ফেরা বীরের কায়দায় সোমবার সংসদ চত্বরে সম্মান জানানো হলো প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে। এই দৃশ্যের ভিডিয়ো দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক এবং দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের জেরে পদত্যাগ করার ঠিক দু’দিনের মাথায় সংসদ ভবনে আসতেই এমনই মহারাজকীয় অভ্যর্থনা পেলেন তিনি। তবে ইস্তফা দিলেও শাসক জোট এনডিএ-র (NDA) অভ্যন্তরে তাঁর জনপ্রিয়তায় যে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি, সেই বার্তা দিতেই এমন আয়োজন। এ দিন সংসদ চত্বরে ঢোকার মুখেই বিজেপি ও এনডিএ সাংসদদের তরফ থেকে তাঁকে ঘিরে ওঠে ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান জিন্দাবাদ’ স্লোগান। সঙ্গে শাসক জোটের সাংসদরা করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান। কেউ আবার ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে, উত্তরীয় পরিয়ে দেন। তবে ইস্তফা দেওয়া একজন মন্ত্রীকে শাসক দলের পক্ষ থেকে এভাবে ‘নায়কের সংবর্ধনা’ দেওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি।
এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধীরা। নিট প্রশ্নপত্র কাণ্ডে হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হওয়ার মুখে যিনি পদত্যাগ করলেন, তাঁকে এভাবে সংসদে সংবর্ধনা দেওয়াকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছে কংগ্রেস-সহ INDIA জোটের নেতারা। অভিযোগ, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করা এক প্রাক্তন মন্ত্রীকে এভাবে ‘বীরের সম্মান’ দেওয়া অনুচিত। কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ রেণুকা চৌধুরী কটাক্ষ করে বলেন, ‘এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এই সরকার বিলকিস বানোর অপরাধীদের মালা দিয়ে বরণ করে নিয়েছিল। যারা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করল, তাদের জিন্দাবাদ স্লোগান দেওয়াই এদের রাজনৈতিক কালচার। এটি বিজেপির রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই প্রতিফলন।’
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই অভ্যর্থনার মাধ্যমে বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে, মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও দলের কাছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের গুরুত্ব কমেনি। তিনি এখনও দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ এবং সাংগঠনিকভাবে তাঁর প্রতি নেতৃত্বের আস্থা অটুট।
একই সঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার নেতৃত্বে বিরোধী সাংসদরা সংসদ চত্বরে ‘শিক্ষা চুরি’ ব্যানার নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ করেন এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান।
NEET-UG প্রশ্নফাঁস, দেশজুড়ে ছাত্র বিক্ষোভ এবং বিরোধীদের লাগাতার চাপের মুখে গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তার পরে প্রহ্লাদ যোশী শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব নেন। এর পরে কেন্দ্র Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Amendment Bill, 2026 লোকসভায় পেশ করে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করে। তবে বিরোধীরা এখনও বিষয়টি নিয়ে সংসদের ভিতরে ও বাইরে সরকারকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে।