NEET-UG-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিতর্কের আবহে সোমবার লোকসভায় Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Amendment Bill, 2026 পেশ করল কেন্দ্র সরকার। বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিলটি উত্থাপন করেন। বিলের লক্ষ্য, প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় সংগঠিত জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
কেন্দ্রের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়েছে। সেই কারণেই ২০২৪ সালের আইনের আরও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সংশোধনী আনা হয়েছে। কেন্দ্রের মতে, এই বিল কার্যকর হলে পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত, বিচার এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
লোকসভায় বিলটি পেশ হওয়ার সময় বিরোধী সাংসদরা NEET প্রশ্নফাঁস, ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি বলপ্রয়োগ এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। বিরোধীদের দাবি, প্রশ্ন ফাঁস বিতর্ক এবং ছাত্র-বিক্ষোভ দমনে অতিসক্রিয় ছিল পুলিশ। এ ব্যাপারে কেন্দ্রের জবাবদিহি চায় বিরোধী দলগুলি। যেমন বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুলেছেন, দিল্লিতে পড়ুয়াদের উপরে পেলেট গান ও বিহারে AK-47 চালানোর অনুমতি কে দিয়েছিল?
এ ছাড়া বিরোধী দলগুলির কথায়, শুধু কঠোর আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁদের মতে, প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে থাকা সংগঠিত চক্র ভাঙা, পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নিয়োগ ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কারও সমানভাবে জরুরি।
লোকসভায় তুমুল হইচইয়ের মধ্যেই এ দিন বিলটি উত্থাপন করা হয় এবং পরে অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়। কিন্তু ২টোর পরে অধিবেশন শুরু হতেও বিরোধীরা আবার কেন্দ্রের জবাবদিহি দাবি করলে আবারও মুলতুবি হয়ে যায় সংসদ।
কেন্দ্র জানিয়েছে, পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। সরকারের মতে, সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বর্তমান আইনকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন ছিল।
NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যু এবং দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের জেরে সরকার প্রবল রাজনৈতিক চাপে রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সংসদের চলতি অধিবেশনেই এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, শুধু কঠোর আইন করলেই হবে না, অতীতের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ এবং পরীক্ষা পরিচালনার ব্যবস্থায় জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।