ধর্মতলায় অশান্তি ও সাংবাদিকদের হেনস্থার ঘটনার পুনর্নির্মাণ। গত শুক্রবার কী ঘটেছিল, কেন মিছিলের নামে গুন্ডামি চালিয়েছিলেন তাঁরা, সোমবার ধৃত পাঁচ জনকে নিয়ে সেটাই জানার চেষ্টা করল পুলিশ। খালি পায়ে পুলিশের সঙ্গে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত হেঁটে যেতে দেখা যায় সে দিনের তাণ্ডবকারীদের। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ধৃত শেখ সলমন আবার বিরক্তও হন। কেন সে দিন এই অশান্তি করলেন? প্রশ্ন করতেই তাঁর জবাব, ‘আদালত বিচার করবে।’
নিটের প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে গত ২৪ জুলাই ধর্মতলায় প্রতিবাদ মিছিল ছিল। সেই মিছিলে কিছু তাণ্ডবকারীও হাজির ছিল, যাদের লক্ষ্যই ছিল সাংবাদিকদের হেনস্থা, মারধর করা। সেই দুষ্কৃতীরা ঘেরাও করে মারধর করে এই সময়ের সাংবাদিক শিলাদিত্য করকেও।
এই ঘটনায় প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গুন্ডাদমন আইনে এই গুন্ডাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এও বলেন, যারা এই অশান্তি করেছে, তারা ছাত্র নয়। পুলিশের উপরে বোতল, জুতো ছোড়া, সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় রবিবার পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের ২ দিনের পুলিশ হেফাজত হয়েছিল। ধৃতদের মধ্যে পাঁচ জনকে এনে এ দিন পুনর্নির্মাণ করা হয়।
সেখানে ছিলেন মহম্মদ আফরোজ, শেখ সলমন, খালেদ রেজা, মহম্মদ মইনুদ্দিনরা। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর-সহ গোটা ঘটনায় তাঁদের ভূমিকা কী, জানতে চায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে সলমন পুলিশের কাছে দাবি করেন, ঘটনার সময়ে তিনি রাস্তায় পড়ে থাকা কাগজের কাপ, বোতল তুলে বস্তায় ভরছিলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্ন শুনে গলা চড়ান সলমন, ‘দেখেছেন আপনারা যে সাংবাদিককে মেরেছি? প্রমাণ দিন না।’
রবিবারই নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাংবাদিকদের উপরে হামলা এ রাজ্যে আর বরদাস্ত করা হবে না। সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের যে ভাবে মারা হয়েছে, তা প্রাণে মারার চেষ্টার সমান। সাতটি মামলা হয়েছে সেই ঘটনায়। সব মামলাই রিপোর্টাররা করেছেন, পুলিশ দু’একটি সুয়োমোটো মামলা করেছে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের উপরে হামলা, ভাঙচুর ও অশান্তির ঘটনায় অভিযুক্তদের ভূমিকা যাচাই করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুনর্নির্মাণ করে।
সোমবার পাঁচ জন অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাঁর দাবি, তিনি হামলায় অংশ নেননি, বরং রাস্তায় পড়ে থাকা কাগজের কাপ ও বোতল পরিষ্কার করছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের উপর হামলা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং ঘটনায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।