৩৫ লক্ষ তেরঙা বিতরণ, লাখ-লাখ টাকা বরাদ্দ, স্বাধীনতা দিবসে ৯ দিনের বিরাট কর্মযজ্ঞ নবান্নের
আজ তক | ২৭ জুলাই ২০২৬
এসে গেল স্বাধীনতা দিবস। আর এবারের স্বাধীনতা দিবসকে বিশেষ করতে আগামী ৯ অগাস্ট থেকে ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি কোণায় পালিত হবে ‘হর ঘর তেরঙা’ অভিযান। দেশপ্রেম , জাতীয় ঐক্য এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জাতীয় পতাকার মর্যাদা তুলে ধরতেই এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে।
জানা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের তরফে রাজ্যকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই নির্দেশ মতোই প্রস্তুতি নিতে রাজ্যও বিজ্ঞপ্তি জারি করল। জেলায় জেলায় ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা পাঠিয়েছে নবান্ন৷ জানা গিয়েছে, এই কর্মসূচি পালনের জন্য ১৩ দফা বড় নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।কর্মসূচি পালনের জন্য জেলা, ব্লক, মিউনিসিপালিটিগুলির জন্য বিশেষ আর্থিক বরাদ্দও করেছে রাজ্য সরকার।
প্রায় ৩৫ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণ
‘হর ঘর তেরঙা’ কর্মসূচিতে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৩৫ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে নবান্ন। এই কর্মসূচি সফল করতে জেলা, মহকুমা, ব্লক ও পুরসভা স্তরে আলাদাভাবে অর্থ বরাদ্দও করছে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। প্রতিটি জেলা এবং সাতটি বড়ো পুরসভার জন্য ১ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ হচ্ছে। প্রতিটি মহকুমার জন্য ৫০ হাজার টাকা, বাকি পুরসভা এবং ব্লকের জন্য ২০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে আগামী ৯ থেকে ১৭ আগস্ট গোটা রাজ্যে পালিত হবে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি। ইতিমধ্যে প্রত্যেক জেলাশাসক এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে চিঠি পাঠিয়ে রাজ্যের এই উদ্যোগ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছেন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব সৌমিত্র মোহন। নির্দেশিকা অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য প্রতিটি জেলা এবং কলকাতা পুরসভা এলাকার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ১ লক্ষ ৫০ হাজার করে জাতীয় পতাকা সরবরাহ করা হবে। কালিম্পং জেলাকে দেওয়া হবে ২০ হাজার জাতীয় পতাকা।
একাধিক কর্মসূচি
জাতীয় পতাকা প্রদর্শনে উৎসাহিত করতে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করবে জেলা প্রশাসন। ৯ থেকে ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত দফতর, জেলা, মহকুমা, ব্লক এবং পুরসভা স্তরে বড়ো আকারে তেরঙ্গা র্যালি ও প্রভাতফেরির আয়োজন করা হবে। পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে ই-বাইক র্যালি করার কথাও বলা হয়েছে। স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বাণী এবং জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর অংশ উল্লেখ করে গ্রাফিতি করা হবে। জনবহুল এলাকায় বড়ো আকারে তেরঙ্গা-থিমের রঙ্গোলি তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর প্রতিটি দফতর ও প্রশাসনিক ইউনিটকে বিস্তারিত রিপোর্ট, ছবি, তেরঙ্গার সঙ্গে সেলফি এবং ভিডিয়ো ডকুমেন্টেশন পাঠাতে হবে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরে।
কোথায় কত টাকা বরাদ্দ?
এই কর্মসূচির জন্য প্রতিটি জেলা ও কলকাতা পুরসভাকে ১.৫ লক্ষ জাতীয় পতাকা এবং কালিম্পং জেলাকে ২০ হাজার পতাকা দেওয়া হবে। এছাড়া জেলাপিছু ১ লক্ষ টাকা, মহকুমাপিছু ৫০ হাজার টাকা, ব্লক ও পুরসভাপিছু ২০ হাজার টাকা এবং প্রতিটি পুরনিগমকে ১ লক্ষ টাকা আর্থিক বরাদ্দ করা হয়েছে।
যুক্ত হচ্ছে ‘বন্দে মাতরম’
কেন্দ্রের নির্দেশের ভিত্তিতে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব সৌমিত্র মোহন এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছেন। এবারের ‘হর ঘর তেরঙা’ কর্মসূচিকে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন একটি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে এবার অফলাইন কর্মসূচি হোক বা অনলাইন অনুষ্ঠান—সব জায়গাতেই জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ গানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া, Har Ghar Tiranga পোর্টালে যে সমস্ত মানুষ নিজের তেরঙ্গা হাতে ছবি বা সেলফি আপলোড করবেন, তাঁদের ছবিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘বন্দে মাতরম’-এর গানের কথা যুক্ত হয়ে যাবে।
এই কর্মসূচিতে কীভাবে অংশ নেবেন?
১৩ দফা নির্দেশ নবান্নের
রাজ্যের তরফে জারি করা হয়েছে ১৩ দফার নির্দেশিকা। প্রথম নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ৯ অগাস্ট থেকে ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত গোটা রাজ্যজুড়ে হর ঘর তেরঙা কর্মসূচি পালন করতেই হবে। দেশপ্রেম থেকে শুরু করে জাতীয় ঐক্য এবং জাতীয় পতাকার মর্যাদা প্রচারের লক্ষ্যেই এই বিশেষ কর্মসূচি। নবান্নের তরফের দ্বিতীয় নির্দেশিকা বলা হয়েছে, রাজ্যের সমস্ত দফতর, কলকাতা পুরসভা থেকে শুরু করে জেলাশাসক, যুব সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন, NGO এমনকি সাধারণ মানুষকেও এই বিশেষ কর্মসূচি পালন করতে হবে। তৃতীয়ত, NCC থেকে NSS সহ বিভিন্ন সংগঠনকে সাইকেল ও বাইক র্যালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ফ্ল্যাগ কোড অফ ইন্ডিয়া, 2023 মেনে রাজ্যের সমস্ত জেল, ব্লক, মহকুমা, পুরসভা স্তরে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে বৃহৎ তেরঙা র্যালি ও পদযাত্রা করতে হবে। পঞ্চম নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ সহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে জাতীয় পতাকা নিয়ে তেরঙা কর্মসূচি, বন্দেমাতরমের প্রদর্শন এবং দেশাত্মবোধক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এছাড়াও সরকারি ভবন থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল, ঐতিহ্যবাহী এলাকা সহ নানান জায়গায় তেরঙা আলোকসজ্জা এবং রঙ্গোলি করতে হবে। সরকারি অফিস থেকে শুরু করে অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেশাত্মবোধক গান এবং সংস্কৃতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। সেইসঙ্গে, প্রত্যেক বাড়ি বা দোকানে জাতীয় পতাকার উত্তোলনের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পতাকার গুরুত্ব বোঝানোর জন্যও বিশেষ কর্মসূচি আয়োজন করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও কুইজ কম্পিটিশন, সেমিনার, বিতর্ক সভার মধ্যে দিয়ে জাতীয় আন্দোলন এবং জাতীয় সংহতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় এও বলা হয়েছে, ব্যানার, পোস্টার, প্রচার থেকে শুরু করে ডিপি পরিবর্তন এবং হর ঘর তেরঙা পোর্টালে সেলফি আপলোডের মধ্যে দিয়ে জন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের তরফে দেওয়া নির্দেশিকায়, বিশেষ কর্মসূচি উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক এবং ক্রীড়া জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের যুক্ত করে জনসমাগম অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রত্যেকটি জেলায় দেড় লক্ষ পতাকা বিতরণের নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। তবে কালিম্পং এ দেওয়া হবে ২০ হাজার পতাকা। এছাড়াও বিশেষ কর্মসূচি উপলক্ষ্যে আর্থিক বরাদ্দ ঘোষণা করেছে রাজ্য। জেলা পিছু এক লাখ টাকা, মহকুমা পিছু ৫০ হাজার, মিউনিসিপ্যালিটি ও ব্লক পিছু ২০ হাজার কলকাতা পুরনিগম সহ অন্যান্য পুরো নিগমের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।