• পরিবহন দপ্তরে অ্যাপ ক্যাব চালকদের বিক্ষোভের ডাক, ১১ দফা দাবিতে সরব সিটু-সমর্থিত সংগঠন
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৭ জুলাই ২০২৬
  • কলকাতায় অ্যাপ ক্যাব চালকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের দাবিতে সোমবার, ২৭ জুলাই পথে নামল সিটু। এদিন ‘ডিভাইস অফ’ কর্মসূচির ডাক দিয়ে পথে নেমেছে কলকাতা ওলা উবের অ্যাপ ক্যাব অপারেটর অ্যান্ড ড্রাইভার্স ইউনিয়ন (সিটু)। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এদিন মৌলালির রামলীলা পার্কে জমায়েতের পর সেখান থেকে পরিবহন দপ্তরের উদ্দেশে রওনা দেবেন চালকেরা। দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে ‘ডিভাইস অফ’ কর্মসূচি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠন।

    সংগঠনের বক্তব্য, অ্যাপ ক্যাব চালকেরা প্রতিদিন শহর ও শহরতলির বিভিন্ন প্রান্তে যাত্রী পরিষেবা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু তাঁদের কোনও সামাজিক সুরক্ষা নেই। অ্যাপভিত্তিক ক্যাব সংস্থাগুলি চালকদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে ‘ড্রাইভার পার্টনার’ বলে উল্লেখ করলেও বাস্তবে সেই অংশীদারিত্বের কোনও সুবিধা তাঁরা পান না। কোম্পানির মুনাফায় তাঁদের কোনও অংশীদারিত্ব নেই বলেও অভিযোগ সংগঠনের।

    ইউনিয়নের দাবি, অতীতেও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে একাধিকবার আন্দোলন, স্মারকলিপি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি সংগঠিত হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। অভিযোগ, অ্যাপ ক্যাব সংস্থাগুলি নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবসা পরিচালনা করছে। অনেক ক্ষেত্রেই অ্যাগ্রিগেটর সংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৮ জুন পরিবহন দপ্তরে একটি ডেপুটেশন দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে পরিবহন মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন জানিয়ে ই-মেলও পাঠানো হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই আবেদনের কোনও উত্তর না মেলায় বাধ্য হয়েই এই কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।

    অ্যাপ ক্যাব চালকদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে নতুন করে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ। তাঁদের দাবি, এসি ক্যাবের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ৩০ টাকা, নন-এসি ক্যাবের ক্ষেত্রে ২৫ টাকা এবং ইন্টারসিটি পরিষেবায় ৩৫ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। এর পাশাপাশি পেট্রোল, ডিজেল ও সিএনজির দাম বাড়লে সেই অনুপাতে ভাড়াও বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

    চালকদের আরও দাবি, সিএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত সংখ্যায় সিএনজি পাম্প তৈরি করে দীর্ঘ লাইনের সমস্যা দূর করতে হবে। ভেহিকল লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস সংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, থানার সঙ্গে ট্র্যাকিং ব্যবস্থা কার্যকর না হলে এই ডিভাইস বাধ্যতামূলক করার কোনও অর্থ নেই। সেই সঙ্গে এই পরিষেবার জন্য নেওয়া চার্জও কমানোর দাবি তুলেছেন চালকেরা।

    এছাড়া লাক্সারি ক্যাবে নন-এসি পরিষেবা বন্ধ করা, সাদা ও হলুদ নম্বর প্লেট সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান করে বাণিজ্যিক নম্বর প্লেট বাধ্যতামূলক করা। পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা এবং মহিলা চালকদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ও সিএনজি পাম্পগুলিতে পৃথক শৌচাগারের ব্যবস্থা করার দাবিও জানানো হয়েছে। ইউনিয়নের দাবিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ই-২০ জ্বালানি শুধুমাত্র সেই উপযোগী গাড়িতেই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দূষণ পরীক্ষার ক্ষেত্রে মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং কোনও চালকের অ্যাপ আইডি বন্ধ করার আগে নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ নির্দেশিকা তৈরির দাবিও তুলেছে সংগঠন।

    সংগঠনের পক্ষ থেকে সমস্ত অ্যাপ ক্যাব চালকদের এই আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, সরকার যদি দ্রুত আলোচনায় না বসে এবং সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী না হয়, তাহলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে তাঁরা হাঁটবেন সোমবারের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিবহন দপ্তর চত্বরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অ্যাপ ক্যাব চালকের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। আন্দোলনের জেরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অ্যাপ ক্যাব পরিষেবায় প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)