• রক্তদানের আড়ালে ভিনরাজ্যে কোটি টাকার রক্তপাচারের অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৭ জুলাই ২০২৬
  • রাজ্যে রক্তদানের আড়ালে কোটি কোটি টাকার রক্তপাচারের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে দান করা রক্ত ও রক্তের উপাদান ভিনরাজ্যে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একাধিক বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্য দপ্তর ও কলকাতা পুলিশ।

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রের খবর, দক্ষিণ কলকাতার যোধপুর পার্কের অশোক ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে মাত্র ছ’মাসে (জানুয়ারি থেকে জুন) প্রায় দু’কোটি টাকার রক্ত ও প্লাজমা বিক্রির তথ্য সামনে এসেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই ব্লাড ব্যাঙ্ককে রক্তদান শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাজ্য ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেল (এসবিটিসি) ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সমস্ত নথি তলব করে। সেই নথি খতিয়ে দেখেই একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।

    তদন্তে উঠে এসেছে, ৩,২৬২ ইউনিট লোহিত রক্তকণিকা, যার আনুমানিক মূল্য ৩৩ লক্ষ টাকা, এবং প্রায় ১২ হাজার ইউনিট (প্রায় ৩ হাজার লিটার) প্লাজমা, যার বিক্রিমূল্য প্রায় ১ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা, ভিনরাজ্যে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। পাঁচটি বহুজাতিক সংস্থার কাছে প্লাজমা বিক্রির রেকর্ডও মিলেছে বলে স্বাস্থ্য ভবনের দাবি।

    এছাড়াও অভিযোগ, রক্তদান শিবির পরিচালনার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালের দ্বিতীয় বর্ষের এমবিবিএস পড়ুয়াদের চিকিৎসক পরিচয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াদেরও তলব করে লিখিত জবানবন্দি নিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

    শুধু অশোক ব্লাড ব্যাঙ্কই নয়, পদ্মপুকুরের হেলথ পয়েন্ট ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধেও প্রায় ৬ কোটি টাকার রক্তপাচারের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য দপ্তর কলকাতা পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছে। এর আগেই মথুরাপুর থানায় ওই ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখার্জি জানান, তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে রক্তদান শিবির আয়োজন করত। অভিযোগ, উপহার ও নগদের লোভ দেখিয়ে রক্ত সংগ্রহের পর তা ভিনরাজ্যে পাচার করা হত। মথুরাপুরের একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের লাইসেন্স ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

    মন্ত্রী আরও বলেন, রক্তদান শিবিরে কোনও ধরনের উপহার বা আর্থিক প্রলোভন দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে কলকাতার আরও কয়েকটি ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।

    মানুষের জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্যে দান করা রক্ত কীভাবে বাণিজ্যের হাতিয়ার হয়ে উঠল, সেই প্রশ্নই এখন উঠছে বিভিন্ন মহলে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন নজর।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)