কিছুতেই বিয়ে হচ্ছে না! অবসাদে মাত্র ৬ মাসে আত্মঘাতী ২৯ যুবক, নেপথ্যে কোন কারণ?
প্রতিদিন | ২৭ জুলাই ২০২৬
হন্যে হয়ে খুঁজেও মিলছে না পাত্রী। ফলে বিয়ে হচ্ছে না। এই হতাশা থেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন একাধিক তরুণ! সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান উঠে এসেছে মহারাষ্ট্র থেকে। জানা গিয়েছে, গত ৬ মাসে অন্তত ২৯ জন যুবক আত্মহত্যা করেছেন স্রেফ বিয়ে হচ্ছে না বলে। দেশের একটামাত্র জেলা থেকেই উঠে এসেছে এই ভয়াবহ ছবিটা।
সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় আত্মহত্যার সংখ্যা নিয়ে রিপোর্ট পেশ করেছে পুলিশ। ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন-এই সময়কালের সংখ্যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রিপোর্ট। মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই জলগাঁওয়ে ৪৩১ জন আত্মঘাতী হয়েছেন। মৃতদের অধিকাংশই পুরুষ। তথ্য অনুযায়ী, মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের আত্মহত্যার হার ১০ গুণেরও বেশি। ৪৩১ জন আত্মঘাতীর মধ্যে ৩৮৩ জনই পুরুষ। এছাড়াও চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২৯ জন মহিলা, ৮ নাবালক এবং ১১ নাবালিকা।
আত্মহননের পথ বেছে নেওয়ার নেপথ্যে স্বভাবতই নানারকমের কারণ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি করে উঠে আসছে আর্থিক সংকট এবং অন্যান্য সামাজিক কারণ। মদ্যপানের সমস্যা, মানসিক অবসাদ, পারিবারিক সমস্যার মতো কারণে নিজেকে শেষ করে দিয়েছেন অনেকে। কেউ বা দেনায় ডুবে, কেউ বা দীর্ঘদিনের অসুস্থতা থেকেও আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু চমকে দিয়েছে বিবাহ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান। গত ৬ মাসে বিয়ে না হওয়ার জেরে আত্মঘাতী হয়েছেন ২৯ জন। মৃতদের প্রত্যেকেই পুরুষ। জানা গিয়েছে, চেষ্টা সত্ত্বেও এঁদের বিয়ে হয়নি অথবা বিয়ের কথা পাকা হয়েও শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জলগাঁওয়ে লিঙ্গভিত্তিক জনসংখ্যার অনুপাতে মহিলারা অনেক পিছিয়ে। হাজার জন পুরুষের নিরিখে রয়েছেন ৯২৫ জন মহিলা। শহরাঞ্চলে এই সংখ্যাটা ৯১৩:১০০০। সেকারণেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও জলগাঁওয়ের মানুষ মনের মত পাত্রী পাচ্ছেন না। সেখান থেকে হতাশা, অবসাদ এবং অনেক সময় সামাজিক কটাক্ষের শিকার হচ্ছেন পুরুষরা। ফলে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন তাঁরা। এই সমস্যার সমাধান কী করে হবে? উত্তর অধরা।