মিঠুন, অমিতাভ থেকে মান্না দে, সুনীল গাভাসকর! চিঠিতে চিঠিতে তিনি গড়েছেন বিরল সংগ্রহ
News18 বাংলা | ২৭ জুলাই ২০২৬
মোবাইল ফোন, ই-মেল, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে চিঠি লেখা আজ প্রায় অতীত। একসময় আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর থেকে শুরু করে সুখ-দুঃখের খবর আদান-প্রদানের একমাত্র মাধ্যম ছিল হাতে লেখা চিঠি। প্রযুক্তির দৌলতে সেই অভ্যাস আজ অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছে।
কিন্তু এই ডিজিটাল যুগেও চিঠিকে নিজের জীবনের আবেগ ও নেশা হিসেবে আঁকড়ে রেখেছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরের ঘোষহাট এলাকার বাসিন্দা অসিতবরণ দত্ত। প্রায় ছয় দশকের জীবনে ছোটবেলা থেকেই চিঠি লেখা তাঁর অভ্যাস। প্রথমে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম ছিল চিঠি।
ধীরে ধীরে সেই শখ রূপ নেয় এক অনন্য সংগ্রহের। পরিচিতদের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে চিঠি লেখা শুরু করেন তিনি। আর আশ্চর্যের বিষয়, সেই চিঠির উত্তরও একে একে আসতে শুরু করে। অসিত বাবু বলেন, “ছোট থেকেই চিঠি লেখার নেশা। সেই অভ্যাস আজও রয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে বহু মানুষকেই আমি মাঝে মধ্যে চিঠি লিখি।
আরও পড়ুন: আজ ফের উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী! নামচিতে স্বজনহারা ১১ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, জল্পেশ মন্দিরে পুজো, সফরসূচিতে আর কী কী?
“অসিতবাবুর সংগ্রহে আজ রয়েছে দেশের বহু খ্যাতনামা ব্যক্তির পাঠানো চিঠি। অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী, অমিতাভ বচ্চন, প্রয়াত অভিনেতা বিনোদ খান্না, কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকর, সঙ্গীতশিল্পী মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, বাপ্পি লাহিড়ি, ঊষা উত্থুপ-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির উত্তর তিনি যত্ন করে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। এমনকি মাদার টেরিজার কাছ থেকেও তিনি চিঠির উত্তর পেয়েছেন।
শুধু দেশেই নয়, ফ্রান্স, দক্ষিণ আফ্রিকা ও তাইওয়ানের তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতিনিধিদের পাঠানো উত্তরও তাঁর সংগ্রহে রয়েছে। তবে চিঠি শুধু তাঁর শখ নয়, বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধানের হাতিয়ারও হয়েছে। একবার একটি ভ্যাকিউম ক্লিনার দীর্ঘদিন খারাপ থাকার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বারবার জানিয়েও সুরাহা না হওয়ায় তিনি চিঠি লেখেন। সেই চিঠির পরই সংস্থার প্রতিনিধিরা বাড়িতে এসে সমস্যার সমাধান করেন। বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার বিষয়েও তিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে নানা দফতরে চিঠি পাঠান।
অসিতবরণ দত্তের কাছে চিঠি শুধুই কাগজে লেখা কিছু শব্দ নয়, বরং অনুভূতি, স্মৃতি এবং মানুষের সঙ্গে হৃদয়ের বন্ধন গড়ে তোলার এক অনন্য মাধ্যম। তাঁর বিশ্বাস, একটি আন্তরিক চিঠি মানুষের মনে যে ছাপ ফেলে, তা কোনও ডিজিটাল বার্তা কখনও পারে না। তাই প্রযুক্তির এই দ্রুতগতির যুগেও তিনি চান নতুন প্রজন্ম আবার কলম হাতে তুলে নিক, চিঠি লেখার সেই হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতিকে নতুন করে বাঁচিয়ে তুলুক।