• মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে উত্তরকন্যায় বড়সড় দুর্ঘটনা! কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই ট্রাকের ধাক্কা
    News18 বাংলা | ২৭ জুলাই ২০২৬
  • রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উত্তরবঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল শিলিগুড়ির উত্তরকন্যা চত্বর। মুখ্যমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে উত্তরকন্যা ও সংলগ্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও ট্র্যাফিক কর্মী মোতায়েন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছে সেখান থেকে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনিক ভবনে যান। সেখানে সম্প্রতি সিকিমের টানেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন। এরপর জলপেশ মন্দিরে পুজো দিয়ে উত্তরকন্যায় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরকন্যায় পৌঁছানোর আগেই ঘটে যায় এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা, যা ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    জানা গিয়েছে, সোমবার বেলা প্রায় দু’টো নাগাদ উত্তরকন্যার সামনে ট্র্যাফিক সিগন্যাল লাল হওয়ায় একটি মোটরবাইক দাঁড়িয়ে পড়ে। সেই সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইকটিকে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার জেরে বাইক আরোহী এবং তাঁর সঙ্গে থাকা স্ত্রী ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই দু’জন রক্তাক্ত অবস্থায় যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন। দুর্ঘটনার পর মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় মানুষ, কর্তব্যরত ট্র্যাফিক পুলিশ ও অন্যান্য পুলিশকর্মীরা ছুটে এসে গুরুতর আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান। অন্যদিকে দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি কিছুটা দূরে গিয়ে থেমে যায়। উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা ট্রাকচালককে ধরে ফেলেন এবং তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তবে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায়, জনতার ক্ষোভের মুখে পড়ে চালককে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপরই ক্ষুব্ধ জনতা উত্তরকন্যার সামনেই রাস্তার উপর বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে ভারী যান চলাচল করে এবং বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

    বিক্ষোভের জেরে উত্তরকন্যার সামনে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় আসার আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ প্রশাসন। উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রায় ১৫ মিনিটের চেষ্টায় অবরোধ তুলে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গোটা এলাকায় আরও কড়া নজরদারি চালানো হয়।

    তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে যখন গোটা এলাকা কঠোর নিরাপত্তায় ঘেরা ছিল, তখনও যদি প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ দিনে এই রাস্তায় চলাচল কতটা নিরাপদ?
  • Link to this news (News18 বাংলা)