'পারিয়া' সিনেমার অভিনেতা কুকুর 'সোনামণি'র শ্রাদ্ধ, রীতি মেনে সম্পন্ন শেষকৃত্য
News18 বাংলা | ২৭ জুলাই ২০২৬
পা ছিল না, তবু ভালোবাসা দিয়ে অসংখ্য মানুষের মন জয় করেছিল ‘সোনামণি’। জীবদ্দশায় যেমন পরিবারের সদস্যের মর্যাদা পেয়েছিল, মৃত্যুর পরেও তেমনই হিন্দু রীতি মেনে সম্পন্ন হলো তার শ্রাদ্ধ। শুধু তাই নয়, তার স্মৃতিতে কয়েকশো পথকুকুরকে মাংস-ভাত খাওয়ানো হল। রবিবার চন্দননগরের বোড়াইচণ্ডীতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন ঘিরে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
চন্দননগরের সাউলিবটতলার বাসিন্দা তথা পশুপ্রেমী সঞ্চিতা পালের সঙ্গে সোনামণির সম্পর্ক প্রায় এক দশকের। প্রায় ১০ বছর আগে হুগলি স্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন সঞ্চিতা। তখন সোনামণির বয়স ছিল প্রায় ছয় বছর। দুর্ঘটনায় তার পিছনের দু’টি পা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সঞ্চিতা নিজের সন্তানের মতো তাকে বাড়িতে নিয়ে এসে চিকিৎসা ও সেবাযত্ন করে সুস্থ করে তোলেন। হাঁটতে অসুবিধা হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে সোনামণির জন্য বিশেষ হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়। সেই হুইলচেয়ারেই চলাফেরা করত সে। ধীরে ধীরে সে শুধু পরিবারের নয়, বহু মানুষের ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে কলকাতা, নদিয়া-সহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক ডগ শো-এর উদ্বোধন করেছে সোনামণি। তাকে এক ঝলক দেখার জন্য পান্ডুয়া, মগরা-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় জমাতেন। পরিচালক তথাগত মুখার্জির ‘পারিয়া’ ছবিতেও অভিনয় করেছিল সে। অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র ও অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়-সহ টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখও সোনামণিকে স্নেহ করতেন। ২০২২ সালের পর থেকে সোনামণির শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে। দীর্ঘদিন হৃদরোগে ভোগার পর বার্ধক্য ও কিডনি বিকলের কারণে চলতি বছরের ২৭ মে, ১৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। রবিবারের অনুষ্ঠানে সোনামণির স্মৃতির উদ্দেশে চন্দননগরের কয়েকশো পথকুকুরকে মাংস-ভাত খাওয়ানো হয়। আজও প্রতি মাসে সঞ্চিতা পালের কবরস্থানে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং আশপাশের পথকুকুরদের খাবার খাওয়ান।
প্রিয় সঙ্গীকে হারানোর বেদনা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি সঞ্চিতা। চোখের জল সামলাতে সামলাতেই তিনি জানান, “সোনামণি শুধু একটি কুকুর ছিল না, সে ছিল আমার মেয়ে।” এখনও প্রতিদিন নিজের হাতে রান্না করে টোটোয় করে চন্দননগরের বিভিন্ন এলাকায় পথকুকুরদের খাবার পৌঁছে দেন তিনি। তাঁকে দেখলেই ছুটে আসে এলাকার সারমেয়রা।