• E20-তে লাভবান গড়করি পরিবার? বিব্রত মন্ত্রী Meta-সহ একাধিক প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ
    এই সময় | ২৭ জুলাই ২০২৬
  • E20 বিতর্কে এ বার বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়করি। E20 (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল) নীতি নিয়ে তাঁর ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে একাধিক নিম্নরুচির পোস্ট সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ছড়ানোর অভিযোগ। তাঁর সম্মানহানির উদ্দেশ্যে করা ডিপফেক ভিডিয়ো, AI-নির্মিত ছবি এবং মানহানিকর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট রুখতে বম্বে হাইকোর্টে আর্জি জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সোমবার আদালত তাঁকে Meta, X (প্রাক্তন টুইটার), Google এবং অজ্ঞাত পরিচয় কনটেন্ট নির্মাতা ও প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে।

    আদালতে দাখিল করা আবেদনে গড়করি দাবি করেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত একাধিক পোস্ট, সম্পাদিত ভিডিয়ো, AI ব্যবহার করে তৈরি ডিপফেক এবং অন্যান্য বিভ্রান্তিকর কনটেন্টে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে টার্গেট করা হয়েছে। অভিযোগ, এই নিম্নরুচির পোস্টগুলিতে দাবি করা হয়েছে, E20 ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচি থেকে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন নীতিন গড়করি ও তাঁর পরিবার। মন্ত্রীর অভিযোগ, এই প্রচার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই চালানো হচ্ছে।

    আবেদনে গড়করি স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন, E20 বা Ethanol Blended Petrol (EBP) Programme-এর নীতি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন বা পরিচালনার দায়িত্ব তাঁর মন্ত্রকের নয়। এই কর্মসূচি পরিচালনা করে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। তাই তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা তথ্যগত ভাবে সম্পূর্ণ ভুল বলে দাবি করেছেন তিনি। এর জন্য মেটা-সহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির বিরুদ্ধে সিভিল স্যুট দায়ের করার অনুমতি চান তিনি, যেখান থেকে এই ধরনের পোস্ট শেয়ার করা হয়েছে। আদালত এ দিন সেই অনুমতিও দিয়েছে।

    বম্বে হাইকোর্ট গড়করিকে দেওয়ানি মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা (interim relief), অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট পোস্ট ও ভিডিয়ো অবিলম্বে সরানোর আবেদন নিয়ে আদালত পরবর্তী পর্যায়ে শুনানি করবে।

    মামলায় গড়করি আদালতের কাছে আবেদন করেছেন—

    বিশেষজ্ঞদের মতে, AI-নির্ভর ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জননেতা বা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ। মামলাটি শুধু মানহানির প্রশ্ন নয়, AI-তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের দায়বদ্ধতা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।

    সোমবার মামলাটির শুনানি হয় বিচারপতি অভয় আহুজার বেঞ্চে। গড়করির পক্ষে আইনজীবী সন্দীপ এস লাড্ডা আদালতে জানান, বিতর্কিত পোস্ট ও ডিপফেক কনটেন্টগুলি মুম্বই-সহ দেশের বাকি অংশের মানুষও দেখতে পাচ্ছেন। যেহেতু মামলার কারণ একাধিক বিচারবিভাগীয় এলাকার সঙ্গে যুক্ত, তাই ‘লেটার্স পেটেন্ট’-এর ১২ নম্বর ধারা (Clause XII of Letters Patent) মেনে হাইকোর্টের দেওয়ানি এক্তিয়ারে এই মামলাটি করার বিশেষ অনুমতি চাওয়া হয়, যা আদালত মঞ্জুর করেছে।

    পিটিশনে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার উল্লেখ করেছেন গড়করির আইনজীবী। মন্ত্রী পদের অপব্যবহার করে নিজের পরিবারকে আর্থিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার যে মিথ্যে বিবরণ উপস্থাপন করা হয়েছে। এই বিষয়টি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার এক সুপরিকল্পিত চক্রান্ত বলে অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

    উল্লেখ্য, খনিজ তেল আমদানির উপর দেশের নির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশে কেন্দ্রীয় সরকার ৮০ শতাংশ পেট্রলের সঙ্গে ২০ শতাংশ ইথানল (E20) মেশানোর নীতি বাস্তবায়ন করেছে।

    ​তবে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু গাড়িচালক ও ইনফ্লুয়েন্সার দাবি তোলেন যে, E20 পেট্রল ব্যবহারের ফলে পুরোনো যানবাহন বা E20-অনুপযোগী ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হচ্ছে বা কমে যাচ্ছে। এর বিরোধিতা করে যানবাহন প্রস্তুতকারক সংস্থা এবং সরকারি ল্যাবগুলি জানিয়েছে, E20 সাপোর্টেড গাড়িগুলির জন্য এই জ্বালানি সম্পূর্ণ নিরাপদ।

    E20 নীতি নিয়ে তাঁর ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ডিপফেক ভিডিও, AI-তৈরি ছবি এবং মানহানিকর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ছড়ানোর অভিযোগে তিনি বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।

    বম্বে হাইকোর্ট Meta, X (প্রাক্তন টুইটার), Google এবং অজ্ঞাত পরিচয় কনটেন্ট নির্মাতা ও প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করার অনুমতি দিয়েছে।

    গড়করির দাবি, E20 বা Ethanol Blended Petrol (EBP) Programme-এর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাঁর মন্ত্রকের নয়; এটি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের অধীনে পরিচালিত হয়।

    আদালত দেওয়ানি মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট পোস্ট ও ভিডিও সরানোর অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন নিয়ে পরবর্তী শুনানিতে সিদ্ধান্ত হবে।

    তিনি ডিপফেক ভিডিও, AI-তৈরি ছবি ও মানহানিকর পোস্ট অপসারণ, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কনটেন্ট প্রকাশে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেছেন।

    AI-নির্ভর ডিপফেক ও ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা, মানহানি এবং অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই মামলা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির তৈরি করতে পারে।

    ডিপফেক হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি এমন ছবি, ভিডিও বা অডিও, যা দেখে বা শুনে বাস্তব বলে মনে হলেও তা সম্পাদিত বা সম্পূর্ণ ভুয়ো হতে পারে।

  • Link to this news (এই সময়)