কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলের আয়োজন করেছিল বামেরা। ককরোচ জনতা পার্টির কলকাতার সমর্থকরাও সেখানে যোগ দেন। সেই মিছিলের শেষেই পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপরে হামলার ঘটনা ঘটে। সে দিনের অশান্তির প্রতিবাদে সোমবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ‘তিরঙ্গা যাত্রা’র আয়োজন করে বিজেপি। মূলত, উত্তর কলকাতার বিজেপি সংগঠনের তরফে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। আন্দোলনের নামে শহরে যাতে অশান্তি ছড়ানো না হয়, সেই দাবি তুলে জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল করে বিজেপি।
এ দিনের মিছিলে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করেননি, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। ভোটে হেরে গিয়েও তিনি পদত্যাগ করেননি। তাঁর দল হেরেছে, তিনিও হেরেছেন, তার পরেও পদত্যাগ করেননি। ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের ঘটনাতেও তিনি পদত্যাগ করেননি। কিন্তু নিট পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্কের পরে ধর্মেন্দ্র প্রধান মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন।’ ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, গণতন্ত্রে মানুষের রায় এবং নৈতিক দায়কে সম্মান জানানোই উচিত।
বরাহনগরের বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, ‘১৬ জনকে গ্রেপ্তার করলে হবে না। ৫১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা দরকার।… এদের দিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন নেই, এদের ডিমোলেশন করার দরকার রয়েছে।’ শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার পাশাপাশি গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্তও এ দিন বিজেপির তরফে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’র আয়োজন করা হয়েছিল। এ দিনের মিছিলে ককরোচদের বিরুদ্ধে স্লোগান, কীটনাশক স্প্রে বোতল হাতে প্রতীকী প্রতিবাদ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বেশ কিছু বাম ছাত্র সংগঠন শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলের আয়োজন করেছিল। মিছিল শেষে ধর্মতলার কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভে বসেন আন্দোলনকারীরা। এর মাঝেই ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে অশান্তি শুরু হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, বোতল ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের হেনস্থা ও মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুন্ডাদমন আইনের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
FAQ
কোথায় মিছিল হয়েছে?
শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এবং গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত এলাকায়।
প্রশ্ন: কেন বিজেপি ‘তিরঙ্গা যাত্রা’র আয়োজন করেছিল?
উত্তর: গত শুক্রবার বাম মিছিলের শেষে পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপরে হামলার প্রতিবাদে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়।
প্রশ্ন: অশান্তির ঘটনায় কতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন?
উত্তর: এখনও পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অশান্তির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
এখনও পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং গুন্ডাদমন আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।