• কর্মীর অভাবে অচল ল্যাব, পরিষেবা না মেলায় চরম ভোগান্তি রোগীদের
    বর্তমান | ২৭ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়ার একমাত্র থ্যালাসেমিয়া হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা বন্ধ থাকায় চরম সমস্যায় পড়েছেন রোগী ও তাঁদের পরিবার। কর্মীর অভাবে ল্যাবরেটরি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষা করাতে না পেরে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। পাশাপাশি হাসপাতালের একাধিক পরিষেবাও ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ।

    মধ্য হাওড়ার পঞ্চাননতলা রোডে বাম আমলে হাওড়া পুরসভার উদ্যোগে গড়ে ওঠা ২৫ শয্যার এই হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরেই জেলার থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু ও রোগীদের অন্যতম ভরসার জায়গা। প্রায় তিন বছর আগে হাওড়া পুরসভার তৎকালীন মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তীর উদ্যোগে জরাজীর্ণ হাসপাতালটির ব্যাপক সংস্কার করা হয়। আধুনিক ল্যাবরেটরি গড়ে তোলা হয়, ব্লাড ব্যাংক চালু করা হয় এবং একটি সংস্থাকে তা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, হাওড়া শহরের থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের সেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রক্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের সহযোগিতায় হিমোগ্লোবিন ও থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষার কিটের ব্যবস্থা করা হয়। পুরসভার পক্ষ থেকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীও নিয়োগ করা হয়। সেই সময় প্রতি মাসে কয়েকশো রোগী নিয়মিত চিকিৎসা ও রক্ত সঞ্চালনের পরিষেবা পেতেন।

    বর্তমানে সেই পরিষেবাই ধাক্কা খেয়েছে বলে অভিযোগ। কর্মী সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই হিমোগ্লোবিন পরীক্ষার ল্যাব বন্ধ। প্রতিদিন গড়ে ১৫-২০ জন রোগী এলেও চিকিৎসক সপ্তাহে মাত্র একদিন আসেন বলে অভিযোগ। রোগী ও তাঁদের পরিজনদের দাবি, ভাঙা চেয়ার-বেঞ্চ, অচল পাখা, অপর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং হাসপাতালের একাংশে পুরসভার জঞ্জালবাহী গাড়ি রাখার ফলে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ভিন রাজ্য থেকে আসা রোগীর পরিজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে পানীয় জল ও শৌচাগারে জলের অভাবেও রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছিল। তবে বিষয়টি সামনে আসার পর রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই পুরসভার আধিকারিকদের হস্তক্ষেপের নির্দেশ দেন। এরপর পানীয় জল ও শৌচাগারে জলের সমস্যা মিটে যায়। প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস, দ্রুত হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা ফের চালু করা হবে এবং কোনো অনিয়মের প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তৎকালীন মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘আমি পুরসভার দায়িত্বে থাকাকালীন গত বছর পুজো পর্যন্ত হাসপাতালের সমস্ত পরিষেবা ঠিকঠাক চলেছে। জল নিয়েও কোনো সমস্যা ছিল না। এখন অনেক সমস্যা হচ্ছে বলে শুনছি। এমনটা কথা ছিল না।’  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)