• উম-পুন দুর্নীতির বহর দেখেই মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে: ঋতব্রত
    বর্তমান | ২৭ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: সিএজি বা ক্যাগ রিপোর্টে উম-পুন দুর্নীতির যে তথ্য হাতে এসেছে এবং খালি চোখে যা দেখতে পাচ্ছি, তাতে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে। যা দেখছি তা ভয়ংকর! ক্যাগ রিপোর্ট নিয়ে বিধানসভায় আলোচনা হবে। রবিবার বিকালে উলুবেড়িয়ার বাজারপাড়ায় এসে একথা বলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়। 

    ঋতব্রত বলেন, উম-পুনের সময় তৎকালীন সরকার এনডিআরএফের কাছে ৩৫ হাজার ১৮ কোটি টাকার দাবি করেছিল। এনডিআরএফ বরাদ্দ করেছিল ৫,৪০০ কোটি টাকা। কারণ ৫০ শতাংশ টাকা এসডিআরএফের কাছে ছিল। ক্যাগ রিপোর্ট বলছে, তৎকালীন রাজ্য সরকার যে টাকা চেয়েছিল তার সঙ্গে বাস্তবের কোনো সর্ম্পক নেই। ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছিল। তার মানে প্রয়োজন ছিল ৫,৪০০ কোটি টাকা। সেখানে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকার চেয়েছিল ৩৫ হাজার ১৮ কোটি! এই টাকা কী জন্য উনি চেয়েছিলেন, তা আমরা জানি না। 

    বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, ২০২০ সালের জুন মাসে কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি বাড়ির জন্য ২০ হাজার টাকা করে দিয়েছিল। ক্যাগ রিপোর্ট বলছে, কিছু বাড়ি ২০ হাজার টাকা করে পেয়েছিল এবং বাকি সব বাড়িকে দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৫ হাজার করে। এই জ্যামিতিক নকশা কার ছিল? প্রশ্ন তোলেন তিনি। 

    ঋতব্রত বলেন ৯,২২৬ জন উপভোক্তাকে টাকা কম দেওয়ার মোট পরিমাণ ১৮ কোটির উপর। ওই টাকা কোথায় গিয়েছে? সেটাই প্রশ্ন। তাঁর আরও অভিযোগ, উপভোক্তাদের তালিকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর থাকে। কিন্তু পূর্বতন সরকার প্রদত্ত খতিয়ানের সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়া, দুই মেদিনীপুর জেলার ভাউচার এবং ব্যাংকের হিসাবের মিল নেই। এরকম ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ১৭৫ জন উপভোক্তার তালিকার সঙ্গে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মিলছে না। ওই টাকার পরিমাণ ১২৫ কোটি টাকা। 

    এই টাকা কেউ গায়েব করেছে বলেই দাবি ঋতব্রতর। তৃণমূলের দলীয় টাকা নিয়েও একাধিক দুর্নীতির আভিযোগ করেন তিনি। উম-পুন, বাড়ির টাকাসহ বিভিন্ন দুর্নীতিকে কার্যত ‘সাগর চুরি’র শামিল বলে কটাক্ষ তাঁর। ওইসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, সব দুর্নীতির তদন্ত হবে নিশ্চয়। আর ওই রাস্তা ঠিক গিয়ে ওই নেতাদের বাড়ি পৌঁছাবে।

    অন্যদিকে ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় কর্মসূচি নিয়ে বেশকিছু তথ্য রাজ্যের বিরোধী দলনেতার হাতে এসেছে। এসব তথ্য নিয়ে তিনি চলতি সপ্তাহে দিল্লি যাবেন বলে জানিয়েছেন। ওই তথ্য তুলে দেবেন দিল্লির একটি উপযুক্ত সংস্থার হাতে। তবে সংস্থাটির নাম আপাতত গোপনই রাখেছেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, সেবাশ্রয় এই সময়কালের অন্যতম বৃহৎ এক দুর্নীতি। এর সঙ্গে আর্থিক তছরুপের যোগ রয়েছে বলেও তাঁর ধারণা। তিনি বলেন, আমার কাছে বেশকিছু অভিযোগ এবং তথ্য এসেছে। ঠিক করেছি, সেসব দিল্লিতে গিয়ে জানাব। সেবাশ্রয় কর্মসূচি কালো টাকা সাদা করার ফন্দি ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। 
  • Link to this news (বর্তমান)