খাকি উর্দির আসল 'হিরোগিরি' দেখল ধূপগুড়ি! রক্তাক্ত মহিলার জন্য যা করলেন, জানলে স্যালুট ঠুকবেন
News18 বাংলা | ২৮ জুলাই ২০২৬
গভীর রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে আচমকা বিরাট বিপদের মুখোমুখি। ধুপগুড়িতে হাতির তাণ্ডবে আশঙ্কাজনক গৃহবধূ, দিশাহারা পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ওসি। উত্তরবঙ্গের জঙ্গল লাগোয়া লোকালয়ে ফের বুনো হাতির আতঙ্ক। গভীর রাতে ধুপগুড়ির উত্তর খট্টিমারি গাড়খুটা এলাকায় এক গৃহবধূর ওপর রীতিমত প্রাণঘাতী হামলা চালাল একটি বুনো হাতি। গুরুতর জখম অবস্থায় আপাতত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত গৃহবধূর নাম মেনকা রায়।
ঘটনার পর যেমন হাতির তাণ্ডবে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তেমনই পরবর্তীতে পুলিশের এক মানবিক রূপ প্রত্যক্ষ করেছেন পরিবার ও প্রতিবেশীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়েছিলেন মেনকা দেবী। অন্ধকারের মধ্যেই আচমকা একটি বিশালাকার বুনো হাতির মুখোমুখি পড়ে যান তিনি। বিপদের আঁচ পেয়ে আতঙ্কিত গৃহবধূ প্রাণ বাঁচাতে পিছন ফিরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই ঘটে বিপত্তি। গজরাজটি ধাওয়া করে শুঁড় দিয়ে ওই মহিলাকে জড়িয়ে ধরে সজোরে মাটিতে আছাড় মারে। মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় হাতির দাঁতের আঘাতে তাঁর পা ও কোমর মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়।
গৃহবধূর আর্তনাদ শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে ব্যাপক চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে হাতিটি অবশেষে সেখান থেকে সরে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন মোরাঘাট রেঞ্জের বনকর্মীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মেনকা দেবীকে দ্রুত ধুপগুড়ি মহাকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন। কিন্তু এর পরেই নেমে আসে এক করুণ পরিস্থিতি। জলপাইগুড়ি নিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় থমকে যায় চিকিৎসা।
অর্থসংকটের জেরে চরম অনিশ্চয়তায় কেটে যায় মূল্যবান ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। এই কঠিন পরিস্থিতিতে সাহায্যার্থে এগিয়ে আসেন ডাউকিমারি ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। পরিবারের অসহায়তার কথা জানতে পেরে গভীর রাতেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ সাহায্য করেন। পাশাপাশি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের বন্দোবস্ত করে দেন। এরপর রাত আনুমানিক ১টা নাগাদ ওই গৃহবধূকে জলপাইগুড়িতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। কোমরে ও পায়ে গুরুতর চোট পাওয়ায় মেনকা দেবী বর্তমানে শয্যাশায়ী, উঠে দাঁড়ানোর মতো অবস্থায় নেই বলেই খবর। জলপাইগুড়ি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে।