এ যেন জাদুঘর, দেশ-বিদেশের নোট ও কয়েন জমানো তাঁর নেশা, তাক লাগালেন দাঁতনের গৃহশিক্ষক
News18 বাংলা | ২৮ জুলাই ২০২৬
তিনি কোনও সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক নন। গ্রামে সাধারণ গৃহশিক্ষকতা করে সামান্য আয়েই তাঁর সংসার চলে। তবে শুধু ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোই নয়, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন থানার বামনদা এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় পয়ড়্যার রয়েছে এক অদ্ভুত নেশা। ছোটবেলার সেই শখকে তিনি আজও সযত্নে লালন করে চলেছেন। পরিচিত, আত্মীয় ও বন্ধুদের সহযোগিতায় দেশ-বিদেশের কয়েন ও নোট সংগ্রহ করে তিনি যেন এক টুকরো ইতিহাসকে ধরে রেখেছেন নিজের কাছে।
ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক সঞ্জয়বাবু পেশায় গৃহশিক্ষক হলেও তাঁর নেশায় কোনও খামতি নেই। ছোটবেলা থেকেই নতুন টাকা বা কয়েন সরিয়ে রাখার মানসিকতা ছিল তাঁর। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশ-বিদেশের মুদ্রা ও নোট সম্পর্কে তাঁর ধারণা স্পষ্ট হয়। সেই আগ্রহ থেকেই শুরু হয় সংগ্রহ। টিউশনির পর নিজের অদম্য ইচ্ছায় এবং দেশ-বিদেশে থাকা বহু মানুষের সাহায্যে তিনি একাধিক দেশের নোট ও কয়েন জোগাড় করেছেন। সযত্নে এই পুরনো ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করছেন তিনি।
বর্তমানে তাঁর সংগ্রহে রয়েছে আমেরিকান ডলার থেকে শুরু করে ইউরোপ, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, নেপাল-সহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০টি নোট। শুধু বিদেশি নোটই নয়, ভারতের বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত একাধিক কয়েন ও নোটের এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে তাঁর কাছে। বিদেশি কয়েনের সংখ্যাও প্রায় শতাধিক। মুদ্রা সংগ্রহের পাশাপাশি তিনি একজন পত্রশিল্পীও।
সঞ্জয়বাবুর এই উদ্যোগ নিছকই কোনও সাধারণ শখ নয়। আগামী দিনে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কাছে তাঁর এই সংগ্রহ এক জীবন্ত ইতিহাস হয়ে উঠবে। সামান্য রোজগারেও নিজের শখ পূরণের জন্য তাঁর এই অদম্য জেদ ও চেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সকলেই। তাঁর এই উদ্যোগ যে শিক্ষাদানের দিক থেকে অত্যন্ত ভাল, তা বলাই বাহুল্য। ঠিক যেন একটি ছোটখাটো জাদুঘরের মত তাঁর এই ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা আগামী প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করবে।