ব্রিটিশ আমলের 'ঘাটাল মডেলে' ফিরল ভাগ্য, কোন টেকনোলজিতে বাজিমাত করল প্রশাসন?
News18 বাংলা | ২৮ জুলাই ২০২৬
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্যতম ঐতিহ্য হল ঘাটালের ভাসাপুল। ব্রিটিশ আমল থেকে শিলাবতী নদীর ওপর বেশ কিছু নৌকার ওপর কাঠের পাটাতন বিছিয়ে এই ভাসমান সেতু তৈরি করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার জন্য এই অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবার সেই ঘাটালের মডেলেই ডেবরা ব্লকের টাবাগেড়্যা এলাকায় কংসাবতী নদীর ওপর চালু হল জেলার দ্বিতীয় অস্থায়ী ভাসাপুল। মূলত বর্ষার মরশুমে সাধারণ মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ পরিষেবা দিতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কংসাবতী নদীর একপাশে রয়েছে ভরতপুর ও ভবানীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা। নদীর ঠিক অন্য প্রান্তে রয়েছে ডেবরা বাজার, হাসপাতাল সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি পরিষেবামূলক স্থান। সম্প্রতি জলের তীব্র তোড়ে নদীর ওপর থাকা কজওয়েটি পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। নদী পার হতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হত, নয়ত বাধ্য হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছতে হত।
গত বছরও ঘাট কর্তৃপক্ষের তরফে এখানে ভাসাপুল তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এ বছর আচমকা নদীতে জল চলে আসায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন যাত্রীরা। তবে নতুন করে এই ভাসাপুল চালু হওয়ার ফলে নদী পারাপারের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা ম্যাজিকের মত দূর হয়েছে। এখন নদীতে জল বেশি থাকলেও খুব সহজেই যাতায়াত করতে পারছেন হাজার হাজার মানুষ। তবে অস্থায়ী স্বস্তি মিললেও, একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতুর দাবি এখনও অত্যন্ত জোরালো।
বহুদিনের এই দাবি প্রসঙ্গে ডেবরার বিধায়ক শুভাশিস ওম আশ্বস্ত করে বলেন, “আমি যখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তখন পাকা সেতু অবশ্যই হবে। এটা শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। পাকা সেতু নির্মাণের জন্য প্রশাসনের যে স্তরে যাওয়া দরকার, আমি যাব।” তিনি আরও জানান, সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে বর্তমানে কিছু জমিজট রয়েছে। এই সমস্যা দ্রুত মেটাতে নদীর দুই দিকের এলাকাবাসীদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। এই উদ্যোগের ফলে স্থায়ী সেতু তৈরির কাজ অনেকটাই ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত কংক্রিটের সেতু না হওয়া পর্যন্ত এই ভাসাপুলই ডেবরার মানুষের যোগাযোগের প্রধান ভরসা।