• বাড়িতে অভাব, তাও প্রতিবেশীর বাড়িতে কেন খাবে? মায়ের বেদম মারে মৃত্যু মেয়ের!
    প্রতিদিন | ২৮ জুলাই ২০২৬
  • বাড়িতে নিত্য অভাবে ঠিকমতো খাবার জোটে না। প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে ভাইকে নিয়ে যৎসামান্য খেয়েছিল নাবালিকা। সেই ঘটনা সৎবাবার কানে যায়। আত্মসম্মানে লাগা ওই ব্যক্তি স্ত্রীকে মেয়ের বিষয়ে দু’চার কথা শুনিয়েও দিয়েছিলেন! অভিযোগ, সেই অশান্তিতে নাবালিকা মেয়েকে বেদম মারধর করেছিল মা। মায়ের বেদম মারে মৃত্যু হল বছর ১১-এর ওই মেয়ের! মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে উলুবেড়িয়ায় (Uluberia)। অভিযুক্ত মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই নাবালিকার নাম সুহানা খাতুন। উলুবেড়িয়া থানার ভেকুটাল ওই পরিবারের বাড়ি। নাবালিকার বাবা-মা দীর্ঘদিন আগেই আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। পরে মা শাকিলা বেগম দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সুহানা ও তার চার বছর বয়সী মেয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গেই থাকে। সুহানার সৎ বাবা মোর্শেদ মোল্লা বোতল কুড়িয়ে সংসার চালান। বাড়িতে নিত্য অভাব অনটন লেগেই রয়েছে। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়াও মেলে না! 

    এই অবস্থায় দিন কয়েক আগে সুহানা চার বছরের ভাইকে নিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়েছিল। সেখানে ভাই-বোনকে কিছু খেতে দেওয়া হয়। খাবার পেয়ে মনের আনন্দে খেয়েছিল দু’জনেই। এদিকে প্রতিবেশীর বাড়িতে ছেলেমেয়ের খাবারের বিষয়টি শুনে আত্মসম্মানে লেগেছিল মোর্শেদ মোল্লার! বাড়ি গিয়ে স্ত্রীকে দু’চার কথা শুনিয়েও দেন তিনি। কেন অন্যের বাড়িতে গিয়ে খেয়েছে ছেলেমেয়েরা, সেই নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হয়। আর তাতে রেগে যান শাকিলা।

    অভিযোগ বুধবার ১১ বছরের মেয়ে সোহানাকে শাকিলা মারধর করেন। চার বছরের ছেলের মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হয় মেরে! মারধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই সুহানা অসুস্থ হতে শুরু করে। বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয়রা সুহানাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসাও হয় সুহানার। শুক্রবার থেকে তার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তাকে ভর্তি করানো হয় উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানেই সুহানা শনিবার রাতে মারা যায়। পরে সুহানার সম্পর্কিত এক দাদা উলুবেড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ রবিবার রাতে শাকিলাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ মায়ের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে। আজ, সোমবার তাকে উলুবেরিয়া আদালতে তোলা হয়।
  • Link to this news (প্রতিদিন)