পাঠশালা না পানশালা! নিত্যদিন নেশার সামগ্রী সাফ করে ক্লাস শুরু করেন প্রধান শিক্ষিকা
প্রতিদিন | ২৮ জুলাই ২০২৬
পাঠশালা না পানশালা! প্রায় প্রতিদিনই স্কুলে এসে মদের বোতল কুড়োতে হয় জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) দেশবন্ধুনগর আরআর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে! ঘরদোর সাফ করে তারপরই শুরু করতে হয় পঠনপাঠন। দিনের পর দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেশার আসর বসা নিয়ে একাধিকবার সরব হলেও কোনও পদক্ষেপ হয়নি! এবার সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় বিরক্ত স্থানীয় কাউন্সিলরও। রাতের অন্ধকারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে এই ধরনের কুকর্ম বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ওই দেশবন্ধু নগর আরআর প্রাথমিক বিদ্যালয়। পড়াশোনার মান ভালো দেখে আশপাশের প্রায় পরিবার তাদের ছেলেমেয়েকে পড়তে পাঠান এই স্কুলে। অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে পড়ুয়াদের পড়ানো হয়। শুধু তাই নয়, স্কুল বাড়ি ও আশপাশও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নও রাখা হয়। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সঙ্গীতা রায় সান্যাল। তাঁর সব দিকেই নজরদারি থাকে। সম্প্রতি স্কুলচত্বরে হওয়া অসামাজিক কিছু কাজকর্ম ব্যথিত করছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। দিন দিন এইসব চলতে থাকায় বিরক্ত প্রধান শিক্ষিকাও।
অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে কে বা কারা স্কুলে ঢুকে রীতিমতো ‘মচ্ছব’ করছে। মদ-মাংসের আসর বসছে প্রায় প্রতি রাতে! স্কুলে এসে এসব পরিষ্কার করাই এখন প্রথম কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রধান শিক্ষিকার। তিনি বলেন, “এছাড়া আর উপায় কী! ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে এসে মদের বোতল, নেশার সামগ্রী দেখলে তাদের মনে প্রভাব পড়তে পারে, এই আশঙ্কা থেকে নিজেই হাত লাগিয়ে নোংরা পরিষ্কার করতে হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত হলে দেওয়াল টপকে স্কুলের ভিতর ঢুকে নেশার আসর বসাচ্ছে কিছু যুবক। এলাকার কাউন্সিলর সন্দীপ ঘোষ বলেন, “অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। বহিরাগতরা একাজ করার সাহস পাবে না।” স্থানীয় কিছু মদ্যপ এই কাজ করছে বলে তাঁর অনুমান। কাউন্সিলর আরও জানান, “প্রধান শিক্ষিকা পুলিশকে লিখিত অভিযোগ জমা করেছেন। পুলিশ পদক্ষেপ করবে।” তিনি নিজেও স্কুল চত্বরে নেশার ঠেক ভাঙতে পদক্ষেপ করবেন বলে জানিয়েছেন।