‘বাগদত্তা’কেই বাড়িতে ডেকে মাদক মেশানো পানীয় খাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগ। কলেজছাত্রীর অভিযোগে গ্রেপ্তার হল ‘হবু বর’। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ওই যুবকের নাম সায়েল মণ্ডল। যা ঘটেছে, তাতে শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন। অভিভাবকদের সমস্ত বিষয়টি জানিয়ে তাঁদের সাহায্যে গল্ফগ্রিন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তরুণী। তার ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার হয়েছে ‘হবু’ বর।
দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা নির্যাতিতা তরুণী কলেজে পড়েন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি একটি চাকরি খুঁজছিলেন। সম্প্রতি এক ঘটকের মাধ্যমে ওই ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে সায়েল মণ্ডল নামে যুবকের পরিবারের যোগাযোগ হয়। দু’জনের বিয়ের ব্যাপারেও কথাও এগিয়ে নিয়ে যান অভিভাবকরা। ছাত্রীর বাবা যুবকের পরিবারকে জানান, তাঁর মেয়ে এখনও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে যান। তিনি চাকরি করতেও ইচ্ছুক। তাই মেয়ে চাকরি পাওয়ার পরই তিনি বিয়ে দেবেন বলে জানান। তাতে রাজি হন সকলে। পাত্র-পাত্রীদের একে অপরের বাড়িতে যাতায়াত ছিল।
সেই সূত্র ধরেই ওই যুবক, সায়েল তরুণীকে জানায়, সেও ‘হবু’ স্ত্রীর জন্য চাকরির চেষ্টা করছে। বায়োডেটাটি যেন তাকে দেয় তরুণী। তার জন্য যাদবপুরের বিজয়গড়ের ফ্ল্যাটে ছাত্রীকে ডেকে পাঠায় সায়েল। নিজের গত ২১ জুলাই ওই যুবকের ফ্ল্যাটে কেউ ছিলেন না। সেই সুযোগে সেদিনই তরুণীকে ডেকে পাঠায় সায়েল। অভিযোগ, বায়োডেটা দেখার অছিলায় সে তরুণীর ঘনিষ্ঠ হওয়ার ছক কষে। তরুণী ওই আচরণের আপত্তি করেন। এরপর তাঁকে যুবক ঘুমের ওষুধ তথা মাদক মেশানো ঠান্ডা পানীয় খেতে দেয়। তিনি ‘হবু’ স্বামীকে বিশ্বাস করে সেই পানীয় খাওয়ার পরই অচেতন হয়ে পড়েন। সেই সুযোগে তরুণী ‘বাগদত্তা’কে সায়েল ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।
তরুণীর চেতনা ফিরে এলে নিজেকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখেন। ফ্ল্যাটের মধ্যে তিনি চেঁচামেচি করেন। অভিযোগ, সায়েল তাঁকে হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বলে। তীব্র শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা নিয়েই তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। মানসিকভাবেও তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত অভিভাবকদের কাছে পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন। তাঁদের সহযোগিতায় গল্ফগ্রিন থানায় তিনি অভিযোগ দায়ের করেন। তারই ভিত্তিতে সায়েল মণ্ডলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।