রেখা পাত্রের বড় ঘোষণা! বদলে যাবে সুন্দরবন, এমনভাবে সাজবে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করবে পর্যটকদের
News18 বাংলা | ২৮ জুলাই ২০২৬
: নতুন রূপে সেজে উঠবে উত্তরের সুন্দরবন, পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণে বড় পরিকল্পনার বার্তা। পর্যটনের প্রসার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সুন্দরবনের সার্বিক উন্নয়নকে সামনে রেখে উত্তরের সুন্দরবনকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানালেন হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়িকা রেখা পাত্র। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বাজেটে সুন্দরবন উন্নয়নের জন্য বড় ঘোষণা করেছে। সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে পর্যায়ক্রমে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করা হবে। বিশেষ করে পর্যটকদের যাতে কোনও ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে না হয়, সেজন্য হোটেল, যাতায়াত, প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও অন্যান্য পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এই ভাবনাকে সামনে রেখেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের লেবুখালী এলাকায় আয়োজন করা হয় এক বিশেষ কর্মসূচির। নদীর খাড়ির ধারে ম্যানগ্রোভ চারা রোপণের মাধ্যমে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের বার্তা দেওয়া হয়। জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে সুন্দরবনের প্রথম প্রতিরক্ষা হিসেবে ম্যানগ্রোভ অরণ্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক অঞ্জন ঘোষ, বসিরহাটের মহকুমাশাসক (এসডিও) জাসলিন কৌর, হিঙ্গলগঞ্জের বিডিও দেবদাস গাঙ্গুলী, হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়িকা রেখা পাত্র, সন্দেশখালীর বিধায়ক সনৎ সরদার-সহ জেলা ও ব্লক প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়িকা রেখা পাত্র জানান, সুন্দরবনের উন্নয়ন শুধুমাত্র পর্যটনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবেশ রক্ষা, স্থানীয় মানুষের জীবিকা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা—সবকিছুকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। সুন্দরবনের স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রেখেই তাকে আরও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক আধিকারিকরাও সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। কোথায় কোথায় নতুন করে ম্যানগ্রোভ রোপণ করা হবে, কীভাবে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া যায় এবং সুন্দরবনকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, সেই বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী দিনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটন উন্নয়ন—এই দুই দিককে সমান গুরুত্ব দিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সবুজ সুন্দরবনকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।