আন্দোলন স্থগিত করার কথা ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের যাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার। তবে আন্দোলন শেষ হতেই সরকার প্রতিবাদীদের নিশানা করতে পারে, এই আশঙ্কা করছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। এই কারণেই আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি তহবিল তৈরির ঘোষণা করেছে তারা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিবাল নিজে এই তহবিলে ১ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। সোমবারই এই কথা জানিয়েছেন তিনি।
ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, NEET-র সংস্কার-সহ বিভিন্ন দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের দাবি মেনে শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার আশ্বাসও দেয় কেন্দ্র। বেশ কয়েকটি রাজ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হওয়া FIR তোলা হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন বিক্ষোভকারীরা। পড়ুয়া ও অন্যান্য আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার না করা হলে এবং ধৃতদের মুক্তি না দেওয়া হলে তারা আন্দোলন পুনরায় শুরু করতে পারেন তারা বলে জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা।
আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি
এরই মধ্যে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। এই কারণেই ৩৭ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করার আগে সিনিয়র আইনজীবী ও রাজ্যসভার সদস্য কপিল সিবালের কাছ থেকে আইনি পরামর্শ নিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি বলে জানিয়েছেন CJP-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস। বিক্ষোভ-পরবর্তী সময়ে অনেককে টার্গেট করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন, প্রথম দিন থেকেই সমস্ত পড়ুয়াকে আইনি ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গেই যাতে তাঁরা সারা দেশজুড়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা পান তার জন্য আইনজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশজুড়ে সব আন্দোলনকারীকে সবরকমের সাহায্য দিচ্ছে CJP। এই আইনি সহায়তা তহবিলের জন্য জনগণের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহের লক্ষ্যে একটি ওয়েবসাইট চালু করার কথাও জানিয়েছে তারা।
পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস কপিল সিবালের
এই ক্ষেত্রে বিক্ষোভকারীদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন কপিল সিবাল। ওই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কীভাবে আইনজীবী এবং অন্যরা যুক্ত হতে পারেন তাও জানিয়েছেন তিনি। কংগ্রেসের এই নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ বলেন, ‘যেখানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হয়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের টার্গেট করা হয়েছে সেখানে সরকারের দায়ের করা আইনি মামলাগুলোর ওপর নজর রাখার জন্য আমরা একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে আমাদের আইনজীবীরা আইনি সহায়তা দিতে পারেন তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ এই জন্য যে তহবিলা করা হয়েছে তাতে ব্যক্তিগতভাবে ১ কোটি টাকা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। অন্য আইনজীবীদের কাছেও একই রকম ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি। ওই পড়ুয়া এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যাতে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা না হয় সেই আবেদনও করেন তিনি।
এক নজরে:
FAQ
কী আশঙ্কা করছে ককরোচ জনতা পার্টি?
আন্দোলন শেষ হতেই সরকার প্রতিবাদীদের নিশানা করতে পারে, এই আশঙ্কা করছে ককরোচ জনতা পার্টি। এই কারণে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে তারা।
কী করতে চলেছে ককরোচ জনতা পার্টি?
আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থেকে একটি তহবিল গঠন করছে ককরোচ জনতা পার্টি। আইনি সহায়তা তহবিলের জন্য জনগণের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহের লক্ষ্যে ওয়েবসাইট চালু করার কথাও জানিয়েছে তারা।
কী জানলেন কপিল সিবাল?
রাজসভার সাংসদ তথা আইনজীবী বিক্ষোভকারীদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। ওই তহবিলে ব্যক্তিগতভাবে এক কোটি টাকা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
আইনজীবীদের কাছে কী জানালেন কপিল সিবাল?
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কপিল সিবাল অন্য আইনজীবীদেরকেও একই রকম ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।