ডবল ট্যাক্সেশন হবে না, আশ্বাস অর্থমন্ত্রীর, রাজস্ব বৃদ্ধিরও পূর্বাভাস স্বপনের
এই সময় | ২৮ জুলাই ২০২৬
এই সময়: চলতি অর্থবর্ষে রাজ্যের রাজস্ব আদায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলেই মনে করছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। প্রফেশনাল ট্যাক্সের (পি–ট্যাক্স) নিয়মে বদল, খনি–খাদান থেকে রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি, কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি––এমনই বিভিন্ন পথে মোট রাজস্ব আদায়ের দিশা দেখিয়েছেন স্বপন। বিধানসভায় শনিবার ফিনান্স বিলের উপরে বিতর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যে প্রবণতা দেখছি, সেখানে বছরের শেষে ১৮ শতাংশ রাজস্ব আদায় বাড়বে। কর আদায়ের পরিধি (ট্যাক্স–নেট) বৃদ্ধি করেই এটা হবে।’
এই ট্যাক্স–নেট বৃদ্ধি করতেই পি–ট্যাক্সের ক্ষেত্রে সংশোধনী এনেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। এই সংশোধনী অনুযায়ী কোনও সংস্থার সদর দপ্তর পশ্চিমবঙ্গে না থাকলেও সেই সংস্থার কর্মী যদি পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত থাকেন, তা হলে সেই কর্মীর বেতনের অন্তর্গত পি–ট্যাক্স বাংলার কোষাগারে জমা দিতে হবে। এত দিন পশ্চিমবঙ্গের বাইরে সদর দপ্তর থাকা সংস্থার কর্মী যদি বাংলায় কর্মরত থাকতেন, তা হলেও সেই কর্মীরে বেতনের অন্তর্গত পি–ট্যাক্স বাংলায় কোষাগার আসত না। যে রাজ্যে ওই সংস্থার সদর দপ্তর রয়েছে, সেই রাজ্যের ভাঁড়ারে যেত। রাজ্য সরকার মনে করছে, পি–ট্যাক্সের ক্ষেত্রে এই নিয়মে বদলের ফলে কোষাগারে ভালো পরিমাণে অর্থ আসবে।
তথ্যপ্রযুক্তি থেকে শুরু করে রিটেল, এফএমসিজি সেক্টর থেকে টেলকম—বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছোট–বড় বহু কোম্পানির অপারেশন পশ্চিমবঙ্গে থাকলেও সদর দপ্তর অন্য রাজ্যে রয়েছে। এই সব সংস্থার পশ্চিমবঙ্গে কর্মরতদের পি–ট্যাক্স এ বার রাজ্যে জমা দিতে হবে। প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এই নিয়মে বদলের ফলে ডাবল ট্যাক্সেশন হবে না তো?’ স্বপন আস্বস্ত করেছেন ডাবল ট্যাক্সেশন যাতে না হয়, সেটা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, ‘ডাবল ট্যাক্সেশন যদি কোথাও হয় তা নিন্দনীয়, কিন্তু এটা হবে না। মূলত বেসরকারি সংস্থাগুলির দিকে তাকিয়েই এই সংশোধনী আনা হয়েছে।’ এত দিন বেতন ১০ হাজার টাকা কিংবা তার বেশি হলে পি–ট্যাক্স দিতে হতো। ফিনান্স বিলে সংশোধনী এনে এই স্ল্যাব এখন ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। প্রতিটি সংস্থাকে কোনও কর্মীর পি–ট্যাক্স সরকারের কাছে জমা দেওয়ার সময়ে সেই সংস্থায় পি–ট্যাক্স দেওয়ার যোগ্য কর্মী কতজন রয়েছেন, তা সরকারকে জানাতে হবে। ফলে কোনও সংস্থা তাঁদের কর্মী সংখ্যা কম দেখানোর সুযোগ পাবে না বলেই রাজ্য সরকার মনে করছে।
বিজেপি সরকার যে খনি–খাদান থেকে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করছে তা আগেই বিধানসভায় শুভেন্দু–স্বপন উল্লেখ করেছিলেন। কী ভাবে খাদান–খনি শিল্প ট্যাক্স–কমপ্ল্যায়েন্স বাড়ানো হচ্ছে, তার ব্যাখ্যায় শনিবার স্বপন বলেন, ‘আগে মাইনিং সেক্টর প্রায় ট্যাক্স ফ্রি ক্ষেত্র ছিল। এখন এআই থেকে অন্য টেকনোলজি—পুলিশিং করে আমরা কমপ্ল্যায়েন্স বাড়াচ্ছি। আমরা ইনফর্মাল সেক্টরকে ফর্মালাইজ করছে। এই ভাবে ট্যাক্স–নেট বাড়ছে।’ কেন্দ্র সরকার কাছ থেকে এই অর্থবর্ষে রাজ্য মোট ৭০ হাজার কোটি টাকা পাবে। এই অর্থ না এলে নতুন সরকার যে সমস্যায় পড়ত, তা অস্বীকার করছে না স্বপন। তিনি বলেন, ‘এই টাকা না এলে অনেক প্রকল্প বন্ধ করে দিতে হতো। রাজ্যকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে হতো।’