ওরা এখনও বুঝতেই পারেনি, ঠিক কত বড় সম্মান পেয়েছে: সৌরভ পালোধী
এই সময় | ২৮ জুলাই ২০২৬
৭২–তম ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডের মঞ্চে সাফল্য এসেছে বাংলা ছবি ‘অঙ্ক কি কঠিন’-এর ঝুলিতে। সৌরভ পালোধী পরিচালিত ছবিতে অভিনয় করা তিন শিশুশিল্পী ঋদ্ধিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (বাবিন), গীতশ্রী চক্রবর্তী (ডলি) এবং তপোময় দেব (টায়ার) পেয়েছে সেরা শিশুশিল্পীর খেতাব। এই সম্মানের পরে ‘অন্য সময় প্রাইম’-এর মুখোমুখি হন পরিচালক ও তিন খুদে অভিনেতা। সেখানে উঠে আসে জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি, কাজের অভিজ্ঞতা, ছবির নির্মাণের নেপথ্যের গল্প–সহ অনেক কিছু। জাতীয় পুরস্কারের খবর প্রথম শোনার অনুভূতি প্রসঙ্গে সৌরভ বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা কেউই এটা আশা করিনি। খবরটা পাওয়ার পর প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। পরিচালক হিসেবে তো বটেই, একজন শিক্ষক হিসেবেও এই আনন্দটা আমার কাছে অন্য রকম। ওরা এখনও পুরোপুরি বুঝতেই পারেনি, ঠিক কত বড় সম্মান পেয়েছে। সময়ের সঙ্গে হয়তো ওরা এই প্রাপ্তির মূল্যটা বুঝবে।
ছবির তিন শিশু শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে সৌরভ বলেন, ‘আমি বরাবরই বাচ্চাদের সঙ্গে কাজ করতে ভালোবাসি। ওদের মধ্যে কোনও কৃত্রিমতা নেই। ওরা ভীষণ আন্তরিক, কৌতূহলী। ওদের সেই সারল্যই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল। পরিচালক হিসেবে আমার কাজ ছিল শুধু সেই স্বাভাবিক অভিনয়টা ক্যামেরার সামনে তুলে ধরা।’
অন্যদিকে পুরস্কারপ্রাপ্ত খুদে শিল্পীরাও উচ্ছ্বাসে ভাসছে। পরিবারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গীতশ্রী চক্রবর্তী জানায়, ‘বাড়িতে সবাই খুব খুশি। সবাই ফোন করছে, শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। এখনও ঠিক বুঝতে পারছি না কী হয়েছে, তবে সবাই বলছে এটা খুব বড় একটা ব্যাপার।’
বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ঋদ্ধিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (বাবিন) জানায় ‘বন্ধুরা এখনও আমাদের আগের মতোই দেখে। ওদের কাছে আমরা এখনও সেই একই মানুষ। জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পরেও আমাদের সঙ্গে ওদের আচরণ বদলায়নি।’ সাফল্য উদ্যাপন কী ভাবে হলো? তপোময় দেব (টায়ার) বলে ওঠে, ‘চিকেন বিরিয়ানি খেয়েছি, সঙ্গে স্যালাড, কোল্ড ড্রিঙ্কস আর মিষ্টি। এ ভাবেই আমাদের সেলিব্রেশন হয়েছে।’ সে আরও বলে ‘প্রথমে তো আমার মা, দিম্মা কেঁদেই ফেলেছিল। তারপর বিষয়টা সবাইকে জানায়।’
ছবির নেপথ্যের গল্পও শোনান সৌরভ। তাঁর কথায়, ‘কোভিডের সময় স্কুল বন্ধ ছিল। তখনই ভাবছিলাম, এই সময়টা শিশুদের জীবনে কী প্রভাব ফেলছে। সেই ভাবনা থেকেই ‘অঙ্ক কি কঠিন’-এর গল্প লেখা। শুটিংয়ের সময়ে প্রচুর বৃষ্টির মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। অনেক দৃশ্য বারবার শুট করতে হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত এমন দুই প্রযোজককে পেয়েছিলাম, যাঁরা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমার পাশে ছিলেন। তাই ছবিটা শেষ করতে পেরেছি।
বক্স অফিসের প্রত্যাশা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সৌরভ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি কখনও সংখ্যার কথা ভেবে ছবি বানাই না। সব ছবির দর্শক এক নয়। বড় তারকার ছবির সঙ্গে এই ধরনের বিষয়ভিত্তিক ছবির তুলনা চলে না। আমি শুধু চেয়েছি, যে দর্শকের জন্য ছবি বানিয়েছি, তাঁদের কাছে যেন ছবিটা পৌঁছয়।’ বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন পরিচালক। তিনি বলেন, ‘‘অঙ্ক কি কঠিন’’ শুধু একটা সিনেমা নয়, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্রও তুলে ধরেছে। ডিজিটাল বিভাজন থেকে শুরু করে পড়াশোনার নানা সমস্যার কথা আমরা দেখিয়েছি। জাতীয় পুরস্কারের এই আনন্দ আমি সেই সব মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই, যাঁরা শিক্ষার উন্নতির জন্য লড়াই করছেন।’ শেষে সৌরভের একটাই বার্তা—‘এই পুরস্কার আমাদের আরও দায়িত্বশীল করে দিল। ভবিষ্যতেও এমন গল্পই বলতে চাই, যা শুধু বিনোদন দেবে না, মানুষকে ভাবতেও বাধ্য করবে।’