কাজের খোঁজে রাজস্থানে গিয়েছিলেন। এক সপ্তাহের মধ্যে বাড়ি ফেরার ট্রেনেও ওঠেন। কিন্তু তারপর থেকেই রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার পরিযায়ী শ্রমিক সন্তু মণ্ডল। একাধিক জায়গায় অভিযোগ জানিয়েও এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় এখন প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন অসহায় মা।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্তুর বাড়ি পাঁশকুড়া থানার সিদ্দা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের দেহাটি গ্রামে। গত ১৬ জুলাই রথযাত্রার দিন কাজের খোঁজে রাজস্থানের যোধপুরে গিয়েছিলেন। কয়েক দিন পরেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের দাবি, ২৩ জুলাই রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে যোধপুর-হাওড়া ট্রেনে ওঠার পরে খুড়তুতো ভাইকে ফোন করে সন্তু জানিয়েছিলেন, তিনি ট্রেনে উঠেছেন। সবাই নিশ্চিন্ত হন।
গোল বাঁধে পরের দিন। আচমকা সকাল ১০টা নাগাদ ফোন করে সন্তু জানান, দু’জন তাঁকে ধাওয়া করছে। কিছুক্ষণ পরে আবার ফোন করেন। ভাইকে জানান, তাঁর টিকিট কেড়ে নিয়েছে। যেন খুব দ্রুত তাঁকে ৫০০ টাকা পাঠানো হয়। সন্তুর কথা মতো ফোনপে করে ৫০০ টাকা পাঠিয়েও দেন তাঁর ভাই। কিন্তু তার পর থেকেই সন্তুর মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, আর তাঁর সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পরেই পাঁশকুড়া থানায় যান সন্তুর পরিবারের সদস্যরা। সেখানে তাঁদের হাওড়া রেল জিআরপি-র সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে হাওড়া রেল জিআরপি-তে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। ইতিমধ্যে সন্তুর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজও। পাঁশকুড়া জিআরপি-তেও অভিযোগ জানিয়েছেন সন্তুর পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও হদিশ মেলেনি।
এদিকে, একমাত্র ছেলের কোনও খোঁজ না মেলায় উদ্বেগে দিন কাটছে সন্তুর পরিবারের। স্বামীহারা মা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে ছেলেকে দ্রুত খুঁজে বের করার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর আর্জি, যে ভাবেই হোক সন্তুকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। পরিবারের দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দ্রুত নিখোঁজ পরিযায়ী শ্রমিকের সন্ধান করুক প্রশাসন।
প্রশ্ন: নিখোঁজ শ্রমিকের নাম কী?
উত্তর: পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার বাসিন্দা সন্তু মণ্ডল।
প্রশ্ন: তিনি কোথায় কাজ করতে গিয়েছিলেন?
উত্তর: রাজস্থানের যোধপুরে কাজ করতে গিয়েছিলেন।
প্রশ্ন: কবে তিনি বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেনে ওঠেন?
উত্তর: ২৩ জুলাই রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে যোধপুর-হাওড়া ট্রেনে ওঠেন বলে পরিবারকে জানান।
প্রশ্ন: শেষবার ফোনে কী বলেছিলেন সন্তু?
উত্তর: তিনি জানান, দু'জন ব্যক্তি তাঁকে ধাওয়া করছে। পরে আবার ফোন করে বলেন, তাঁর টিকিট কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে ৫০০ টাকা পাঠাতে বলেন।
প্রশ্ন: পরিবার কী পদক্ষেপ করেছে?
উত্তর: প্রথমে পাঁশকুড়া থানায় যায়। পরে হাওড়া রেল জিআরপি এবং পাঁশকুড়া জিআরপি-তে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
প্রশ্ন: তদন্তে কী কী করা হচ্ছে?
উত্তর: পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এবং নিখোঁজ শ্রমিকের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।
প্রশ্ন: বর্তমানে সন্তু মণ্ডলের কোনও খোঁজ মিলেছে?
উত্তর: না। অভিযোগ দায়েরের পরও এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও হদিশ মেলেনি।
প্রশ্ন: পরিবারের দাবি কী?
উত্তর: প্রশাসন দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে সন্তু মণ্ডলকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনুক—এটাই পরিবারের আবেদন।