• ইউরোপীয়রা আসার বহু আগেই সমৃদ্ধ ছিল ভারতের সমুদ্রবাণিজ্য
    এই সময় | ২৮ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: মহারাষ্ট্রের এলিফ্যান্টা দ্বীপে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (সংক্ষেপে এএসআই)। সেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে এমন কিছু নিদর্শন মিলেছে, যা ভারতের প্রাচীন সামুদ্রিক ইতিহাস সম্পর্কে দীর্ঘদিনের ধারণাকে হয়তো পাল্টে দিতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, খনন থেকে পাওয়া প্রমাণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকে সেখানে ছিল একটি সমৃদ্ধ সামুদ্রিক বসতি। ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্য, নৌচলাচল ও সাংস্কৃতিক আদান–প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দ্বীপটির ভূমিকা ছিল বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে কি ইউরোপীয়দের আগমনের বহু শতাব্দী আগেই ভারতের সমুদ্রবাণিজ্য বিস্তৃত ও সুসংগঠিত ছিল? এলিফ্যান্টার প্রত্নতাত্ত্বিক খনন থেকে পাওয়া প্রমাণে ইঙ্গিত তেমনই।

    ওই গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ন–আবিষ্কারকে তেমন ভাবে প্রচারে না–এনে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই) অন্য একটি উদ্যোগকে সামনে এনে প্রচার করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের ভুলেশ্বর মন্দির-সহ কয়েকটি সংরক্ষিত স্মৃতিসৌধে কিউআর কোড-ভিত্তিক অডিয়ো গাইড এবং জিপিএস-সাপোর্টেড ডিজিটাল ন্যাভিগেশন পরিষেবা চালু করা হয়েছে। এর ফলে উৎসাহীরা স্মার্টফোন ব্যবহার করে সহজেই ঐতিহাসিক তথ্য শুনতে পারবেন, এমনকী, দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগের এলাকাতেও ওই পরিষেবা পাওয়া সম্ভব হবে। ইতিহাসবিদদের একাংশের বক্তব্য, ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও মানুষের আগ্রহ বাড়াতে এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পদক্ষেপ, তবে এলিফ্যান্টার মতো যুগান্তকারী প্রত্ন–আবিষ্কারের তুলনায় ওই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কোনও ভাবেই বেশি গুরুত্ব পেতে পারে না।

    যে দ্বীপ নিয়ে এত আলোচনা, সেটি ‘এলিফ্যান্টা’ নামে বেশি পরিচিত হলেও তার প্রাচীন নাম ‘ঘরাপুরী’। পর্তুগিজদের দেওয়া নাম বর্জন করে পুরোনো এবং ‘আসল’ নামটি ফিরিয়ে আনার জন্য ইতিমধ্যেই দাবি তুলতে শুরু করেছেন একদল ইতিহাসবিদ। তাঁদের যুক্তি, এমনটা করা হলে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও যথাযথ ভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। প্রত্নতত্ত্বের উদ্দেশ্য যখন অতীতের প্রকৃত পরিচয় পুনরুদ্ধার করা, তখন সরকারি ভাষাতেও সেই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন থাকা উচিত বলে তাঁরা মনে করছেন।

    প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, ঘরাপুরীতে খনন এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী দিনে আরও বিস্তৃত অনুসন্ধান, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং সেখান থেকে পাওয়া নমুনাগুলি বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্বীপটির অতীত সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে। গবেষণালব্ধ ফল আন্তর্জাতিক পত্রিকায় বেরোলে ভারতের সামুদ্রিক ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিনের বহু বিতর্কেরও নতুন মূল্যায়ন সম্ভব হবে। ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ পরিকল্পনা, পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রেও এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। তাঁদের বক্তব্য, ঘরাপুরীর খননকার্যে মিলতে থাকা নতুন নতুন তথ্য ভারতের প্রাচীন সামুদ্রিক ঐতিহ্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের ইতিহাসকে নতুন ভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ করে দিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)