বঙ্গ রাজনীতির নতুন অধ্যায় শুরু হওয়া কি এ বার তা হলে সময়ের অপেক্ষা? মঙ্গলবার দিল্লিতে ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স বা এনডিএর (NDA) বৈঠক শুরু হয়েছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মঙ্গল মিলন’। সেই বৈঠকে ডাক পেয়েছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা, যাঁরা আপাতত NCPI-এর সদস্য। এ দিন সংসদ ভবনের হলে সেই বৈঠকে একেবারে প্রথম সারিতে দেখা গেল কাকলি ঘোষ দস্তিদার। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা, রাজনাথ সিংদের সঙ্গে গ্যালারির প্রথম রো-তে বসে কাকলি। ঠিক তার পরের সারিতেই শতাব্দী রায়ও বসে রয়েছেন। এর পরেই জল্পনা জোরালো, তবে কি এ বার ‘চাড্ডা-রাজনীতি’র পুনরাবৃত্তি হবে বাংলার সাংসদদের হাত ধরে? অর্থাৎ তৎকালীন আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডা যেমন সদলবলে বিজেপিতে এসে যোগ দিয়েছেন, কাকলি, শতাব্দী, সুদীপদের মতো সাংসদরাও কি সরাসরি নাম লেখাবেন বিজেপিতে?
সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়েছে এই বৈঠক। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, শর্মিলা সরকাররাও পৌঁছে গিয়েছেন এই বৈঠকে। এই বৈঠক ঘিরে অনেক জল্পনাই ঘোরাফেরা করছে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে। বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও NCPI পার্টিকে আলাদা সংসদীয় দলের অনুমোদন দেননি অধ্যক্ষ। এই ২০ জন সাংসদকে ডিসকোয়ালিফাই করার দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের তরফে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই আবহে সোমবার সন্ধেয় কলকাতায় ফিরে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একপ্রস্ত বৈঠক করেন NCPI-র প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। যদি বৈঠক নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি মুখ্যমন্ত্রী বা সুদীপ।
এই আবহে বাংলা থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতে দল বদল করা ২০ জন সাংসদের বিজেপিতে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও চর্চা চলছে। প্রবীণ সাংসদ ও তৃণমূল নেতা সৌগত রায় (যিনি দল বদল করেননি) NCPI-এর এই NDA বৈঠকে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে ANI-কে বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েই এই সাংসদরা তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন। এখন NCPI হয়েছেন। দল ছেড়ে দলের সঙ্গে তো বেইমানি করেইছেন, যাঁরা বিজেপির বিরোধিতা করে জিতেছিলেন, তাঁরাই বিজেপিতে সামিল হচ্ছেন।’
যদিও রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া, ‘প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের কাজকে যদি কেউ সমর্থন করেন, সেটা তো খুবই ভালো কথা। দেশের মানুষই তো তা হলে সুবিধা পাবেন। বাকি পার্টিগুলিও সমর্থন করুক।’
NDA-এর এই বৈঠক নিয়ে সোমবারই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তৃণমূল থেকে যাঁরা NCPI-এ যোগ দিয়েছেন, তাঁরা একেবারেই একটা ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য। তাঁরা কী করবেন, কবে কোন মিটিংয়ে যোগ দেবেন, একেবারেই তাঁদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।
যদিও তৃণমূলপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া, ‘২০ জন সাংসদ বিশ্বাসঘাতক। মমতাদির ছবি ব্যবহার করে জিতে দিল্লি গেলেন। এখন NCPI হয়ে বিজেপির কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।’ এই আবহে দিল্লির রাজনীতি কি নতুন কোনও চমক দেয় বাংলাকে, সকলের নজর সে দিকেই।