নিট-এর প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আন্দোলনকারীদের উপরে যেমন পুলিশি হামলার অভিযোগ উঠেছে, তেমনই বিক্ষোভে পুলিশও আক্রান্ত হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। সেই সব ঘটনার তদন্তে এ বার উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গড়ার কথা বলল সুপ্রিম কোর্ট। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নোটিসও দিল শীর্ষ আদালত। সেই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ নির্দেশ, ১৮ বছরের কম বয়সি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আপাতত কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। যাঁদের গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে, তাঁদেরও মুক্তি দিতে হবে, যদি না তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের কোনও রেকর্ড থাকে।
গত ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ অভিযানে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ছোড়া, এমনকি পেলেট গান ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার সেই সব মামলার একত্রে শুনানি হয় শীর্ষ আদালতে। তার প্রেক্ষিতেই নিরপেক্ষ এবং আলাদা তদন্তের কথা বলেছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি কান্ত বলেন, ‘যদি কেউ মাত্রা ছাড়ায়, আইন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। ছাত্রছাত্রীরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ভাবে, সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে থেকেই প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু পড়ুয়াদের অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ পদক্ষেপ করেছে, টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে। তা আদৌ করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হোক। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ গণতন্ত্রেরই অঙ্গ।’
সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত হন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। শুনানিতে তিনি এও মনে করিয়ে দেন, নিট বিক্ষোভের সময়ে ২৫০ জন পুলিশকর্মীও জখম হয়েছেন। তাই তাঁর আর্জি, সত্য উদঘাটনে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি, যাতে পুলিশ মনোবল ভেঙে না যায়। তুষার বলেন, ‘আমি মনে করি না, ছাত্রছাত্রীরা কোনও রকম অশান্তির ঘটনা ঘটিয়েছেন। কিন্তু কিছু সমাজবিরোধী পড়ুয়াদের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল। তাদের অনেকেই খুন-ধর্ষণে অভিযুক্ত। এ ব্যাপারে আদালতে তথ্য জমা দেব আমরা।’ আন্দোলনে যে বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী ঢুকে পড়েছিল, তা মেনে নিয়েছে সুপ্রিম কোর্টও।
এ সবের ভিত্তিতেই নিরপেক্ষ তদন্তের কথা বলে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোন-বডিক্যাম ফুটেজ সংরক্ষণ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লি ছাড়াও নিট আন্দোলন আছড়ে পড়েছিল মহারাষ্ট্র, বিহার, অসম, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশে। এই সাত রাজ্যেও বিক্ষোভের ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এ ছাড়া কোনও পড়ুয়া বিক্ষোভকারীর ব্যক্তিগত তথ্য যাতে জনসমক্ষে না আসে, তা-ও মাথায় রাখতে বলেছে আদালত।
তবে শুধু নিরপেক্ষ তদন্ত নয়, ভবিষ্যতে আন্দোলন সামলাতে পুলিশ কী ভাবে আচরণ করবে, সেই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গোটা দেশের জন্যই একটি নির্দেশিকা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এই ব্যাপারে সব রাজ্যের বক্তব্য জানতে আগামী শুনানিতে সকল অ্যাডভোকেট জেনারেলদের ভার্চুয়ালি হাজির থাকতে বলা হয়েছে। পরবর্তী শুনানি ৩ অগস্ট।
সুপ্রিম কোর্ট যে তদন্ত কমিটি গড়ার কথা বলেছে, তাতে কেন্দ্রের কোনও আপত্তি নেই বলেই জানিয়েছেন তুষার। তবে আবেদনকারীদের তরফে যে সব নামের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তার বিরোধিতা করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটিতে কারা থাকবেন, সেই ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিক।