এই সময়: তাঁরা ভিন ধর্মের। ভালোবেসে বিয়ে করতে চেয়েছেন। পরিবারের আপত্তি ছিল না। কিন্তু বেঁকে বসেন এলাকার মাতব্বররা। ভয়, হুমকি, জোর করে মুচলেকা লেখানো—বাদ যায়নি কিছুই। প্রেমিক যুগল হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এ দিন সেই মামলার শুনানিতে আদালত বিয়েতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বন্দোবস্তের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশকে। কাল বুধবার বিয়ে।
হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় থাকেন তরুণ–তরুণী। দীর্ঘদিনের পরিচয়। ধর্মীয় পরিচয় তাঁদের ভালোবাসায় কোনও দিনই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। দুই পরিবারের সম্মতিতে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে বিয়ে করবেন বলে স্থির করেন। বিয়ের দিন ঠিক হয় ২৯ জুলাই। কিন্তু স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে বিয়ের জন্য যে নোটিস দিতে হয়েছিল, তা জানাজানি হয়ে যেতেই যত বিপত্তি। এলাকার মাতব্বররা ময়দানে নেমে পড়েন। সালিশি সভাও বসানো হয়। অভিযোগ, মেয়ের বাবাকে দিয়ে মুচলেকা লেখানো হয়। সেই সময়ে সেখানে উলুবেড়িয়া থানার এক অফিসারও হাজির ছিলেন বলে অভিযোগ। পরে ছেলের বাবাকে দিয়েও মুচলেকা লেখানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তরুণীর দাবি, পুলিশকে জানিয়েও কোনও সুরাহা পাননি। তাই বাধ্য হয়েই কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়।
এ দিন হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, ২৯ জুলাই বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের দিন আবেদনকারী যুগলকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে হবে। পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। রাজ্যের তরফে জানানো হয়, শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিচারপতি বলেন, ‘কেবল শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখাই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীরা যে হেতু প্রাপ্তবয়স্ক, তাই নিজের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়া তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার। ভিন ধর্মের বিয়ে হওয়ায় সেই অধিকারে কোনও বাধা থাকতে পারে না। কেউ এটা আটকানোর চেষ্টা করতে পারে না।’
মামলায় আবেদনকারীরা অভিযোগ করেন, যে হেতু তাঁরা ভিন ধর্মে বিয়ে করতে চান, তাই এলাকার কিছু মাতব্বর তা আটকাতে ফতোয়া দিয়েছে। দুই পরিবারকে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ওই যুগলের আইনজীবী নথি দেখিয়ে কোন কোন সংগঠন এই বিয়েতে বাধা দিচ্ছে তা নিয়ে আদালতের দৃষ্ট আকর্ষণ করেন। স্পষ্ট ভাষায় আদালত রাজ্যকে জানিয়ে দেয়, কোনও ভাবেই এই সবকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করা হয়েছে। বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কোর্ট উলুবেড়িয়া থানার আইসিকে ২৯ জুলাই বিয়ের দিন পর্যাপ্ত পুলিশি সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি সাত দিনের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১০ অগস্ট।