বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, তুমুল ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা! গঙ্গাসাগরে জারি লাল সতর্কতা
News18 বাংলা | ২৮ জুলাই ২০২৬
: দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলে বিপর্যয়। যার জেরে সতর্ক প্রশাসন। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ভারী থেকে অতি ভারী ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কায় সাগর ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঙ্গাসাগরের কপিল মুনির আশ্রম চত্বর এবং স্নানঘাটগুলিতে লাগাতার মাইকিং করে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে তীর্থযাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েকদিন সমুদ্রের রূপ অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হতে পারে। তাই স্নান করার সময় পুণ্যার্থীরা যেন অতিরিক্ত উৎসাহে সমুদ্রের বেশি গভীরে না যান। পাশাপাশি, উপকূলবর্তী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘাটগুলিতে টহলদারি চালাচ্ছেন এবং পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন।
সেই সঙ্গে অতিভারী বৃষ্টির জেরে কার্যত জলের তলায় চলে গেল নামখানার ফ্রেজারগঞ্জের অমরাবতী গ্রাম। বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার জেরে বৃষ্টিতে গ্রামের অন্তত ৫০টি বাড়িতে হাঁটু সমান জল ঢুকে গিয়েছে। ভিটেমাটি ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে ইতিমধ্যেই বহু পরিবার স্থানীয় স্কুল ও হোটেলে আশ্রয় নিয়েছেন। সব হারিয়ে এখন চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটছে অমরাবতীর বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের। শুধুমাত্র ফ্রেজারগঞ্জের অমরাবতী গ্রাম নয়,পাশে থাকা লক্ষ্মীপুর, বিজয় পাটি গ্রামের কিছু কিছু বাড়িতে জল ঢুকেছে। তবে সব থেকে ভয়াবহ পরিস্থিতি অমরাবতী গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবার।
হাঁটু সমান জল পেরিয়ে, কোনওরকমে রান্নার সরঞ্জাম এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে অমরাবতীর প্রায় ১০টি পরিবার বাড়ি ছেড়েছেন। তবে একমাত্র সম্বলটুকু ছেড়ে এখনও অনেকেই জলমগ্ন বাড়িতেই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গ্রামের কয়েকশো বিঘা কৃষিজমি এখন সম্পূর্ণ জলের তলায়। নষ্ট হয়ে গিয়েছে ধানের বীজতলা। পাশাপাশি এলাকার সমস্ত পুকুর ভেসে গিয়ে মাছও নষ্ট হয়ে গিয়েছে।