• একযুগের অন্ধকার কাটিয়ে কীভাবে ১২ দিনে এল বিদ্যুৎ? আবেদনের ঠিকানা জেনে রাখলে কাজে আসবে
    News18 বাংলা | ২৮ জুলাই ২০২৬
  • দীর্ঘ এক যুগের অন্ধকারের অবসান। অবশেষে আলো জ্বলল পুরুলিয়ার লাউলদা গ্রামের প্রান্তিক পরিবারে। সামান্য এক জমি-বিবাদের জেরে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাতে হয়েছে কৃষ্ণ বাউরি ও তাঁর পরিবারকে। অবশেষে সল্টলেকে আয়োজিত মুখ্যমন্ত্রী জনতা দরবারে বিষয়টি জানিয়েছিলেন তাঁরা। তারপর মাত্র ১২ দিনের মাথায়  ঘরে এল বিদ্যুৎ।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে আবেদন জানানোর পরেই বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন। স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে পরিবারটি জীবনে নতুন করে আলো দেখল। জানা গিয়েছে, জমি-বিবাদের জেরে ১২ বছরে ধরে অন্ধকারে কাটাতে হয়েছে তাঁদের। পেশায় সাইকেল মেকানিক কৃষ্ণ বাউরির অভিযোগ, প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিবাদের জেরে বিগত ১২ বছর ধরে তাঁদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।

    তিনি আরও বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি একাধিকবার বিদ্যুৎ দফতরে আবেদন জানান। স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও দরবার করেন। তবে নানা জটিলতা ও বিবাদের কারণে সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। ফলে বিদ্যুতের অভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তাঁর সন্তানদের পড়াশোনা। কেরোসিন ও প্রদীপের আলোয় পড়াশোনা চালিয়েছেন তাঁর মেয়ে। নার্সিং পাস করে বর্তমানে তিনি কর্মরত। তবে তাঁর ছেলে মাধ্যমিকের পর আর পড়াশোনা চালাতে পারেনি। অবশেষে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার সমাধানের আশায় চলতি মাসের ১৩ জুলাই কৃষ্ণ বাউরির স্ত্রী কল্পনা বাউরি এবং তাঁদের মেয়ে সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর জনতা দরবারে হাজির হন।

    সেখানে তাঁরা পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে অভিযোগ নথিভুক্ত করেন। তারপরেই ভাগ্য ফিরেছে ওই পরিবারের। অবশেষে এক যুগের দুর্ভোগ শেষ হয়েছে। জানা গিয়েছে, নির্দেশ পাওয়া মাত্রই পুরুলিয়ার স্থানীয় পুলিশ, ব্লক প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকরা যৌথভাবে উদ্যোগী হন। জমি-বিবাদের সঙ্গে যুক্ত উভয় পক্ষকে ডেকে যৌথ শুনানির আয়োজন করা হয়। সমস্ত দিক বিবেচনা করার পর সিদ্ধান্ত হয়, কৃষ্ণ বাউরির পরিবারকে অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। সিদ্ধান্তের পরেই বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা পুলিশ সঙ্গে নিয়ে গিয়ে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন।
  • Link to this news (News18 বাংলা)