নিম্নচাপের জেরে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জনজীবন। দিন কয়েক আগের অবিরাম বর্ষণে খড়গপুর, মেদিনীপুর-সহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। সেই সময় বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা নিয়েই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। তবে সেই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগেভাগেই সতর্ক প্রশাসন। বর্ষার জল জমার দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রেহাই দিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নিকাশি নালা পরিষ্কারের কাজে নামল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নারায়ণগড় ব্লকের বেলদা ২ গ্রাম পঞ্চায়েত।
আবহাওয়া দফতরের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস মেলায় আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেনি প্রশাসন। সোমবার রাতের অন্ধকারেই জেসিবি ও বিশাল শ্রমিক বাহিনী নামিয়ে বেলদার মহম্মদপুর এলাকায় শুরু হয় মূল নিকাশি বা মহানালা পরিষ্কারের কাজ। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা কাদা, পলিথিন , কাচ ও আগাছা সরিয়ে জলনিকাশি ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে উদ্যোগী হয় পঞ্চায়েত। আক্ষরিক অর্থেই গত এক মাস ধরে বেলদার বিভিন্ন নিকাশি নালা সংস্কারের কাজ চলছে। রাতের এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে গোটা কাজের তদারকি করেন বেলদা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গৌরীশঙ্কর অধিকারী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, প্রশাসনের উদাসীনতায় নিকাশি ব্যবস্থা ঠিকমত রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। ফলে বিগত বছরগুলিতে সামান্য বৃষ্টি হলেই বেলদা শহরের রাস্তাঘাট জলে ডুবে যেত। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের চরম অসুবিধার পাশাপাশি জল ঢুকে যেত এলাকার একাধিক দোকানপাটেও। দীর্ঘদিন ধরে নালায় আবর্জনা জমে থাকার কারণেই এই বিপত্তি ঘটত বলে দাবি এলাকাবাসীর। তবে রাতের অন্ধকারে প্রশাসনের এই তৎপরতা দেখে স্বভাবতই খুশি তাঁরা। পঞ্চায়েতের এই উদ্যোগে জল জমার সমস্যা অনেকটাই মিটবে বলে এখন আশাবাদী বেলদাবাসী।
বর্ষায় যাতে সাধারণ মানুষকে আর দুর্ভোগ পোহাতে না হয়, সেই কারণেই পঞ্চায়েতের এই আগাম প্রস্তুতি। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের তরফে জানান হয়েছে, বর্ষার মরসুমে জল জমার সমস্যা মেটাতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে এই সাফাই অভিযান অত্যন্ত জরুরি। বিগত দিনগুলিতে যেভাবে জোরকদমে নালা পরিষ্কারের কাজ চলেছে, আগামী দিনেও এলাকার অন্যান্য জায়গায় একইভাবে এই কাজ অব্যাহত থাকবে। সব মিলিয়ে জলযন্ত্রণা থেকে শহরবাসীকে মুক্তি দিতে পঞ্চায়েতের এই সদর্থক পদক্ষেপ এখন এলাকায় প্রশংসিত হচ্ছে।