• হাড়োয়ার নিখোঁজ মীনাক্ষীর খোঁজ মিলল বালুরঘাটে, বাড়ি ফিরে কী জানালেন?
    এই সময় | ২৮ জুলাই ২০২৬
  • বালুরঘাট স্টেশনে খোঁজ মিলল হাড়োয়ার নিখোঁজ তরুণী মীনাক্ষী সওদাগরের। মঙ্গলবার সকালে নিজের বাড়িতে পৌঁছন তিনি। পরিবারের দাবি, ফিরে এসে তিনি জানান, রবিবার রাতে শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে চেপে বালুরঘাট পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে ছোট্ট ছেলের মুখ মনে পড়ছিল বার বার। তার পরেই কান্নাকাটি শুরু করেন। মীনাক্ষী পরিবারকে জানান, তাঁকে কান্নাকাটি করতে দেখে এগিয়ে আসে রেল পুলিশ। তাঁরাই তাঁকে শিয়ালদহের ট্রেনে তুলে দেন।

    হাড়োয়া থানার কচুরহুলার বাসিন্দা মীনাক্ষী সওদাগর (২৬)। সাত-আট বছরের একটি ছেলে আছে তাঁর। বছর কয়েক আগে মীনাক্ষীর বছর চারেকের মেয়ে জলে ডুবে মারা যায়। এর পর থেকেই মানসিক অবসাদ ঘিরে ধরে তাঁকে। চিকিৎসাও চলে তাঁর। মীনাক্ষীর স্বামী সৌরভ সওদাগর কলকাতায় ঘটকপুকুরে কাজ করেন। মীনাক্ষীর বাপের বাড়িও ঘটকপুকুরেই। গত শনিবার সেখানে এসেছিলেন। রবিবার শ্বশুরবাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর।

    মীনাক্ষীর স্বামী সৌরভের দাবি, বাড়ি ফেরার পথে ঘটকপুকুর বাজার এলাকায় মাদুহাটার কাছে স্ত্রীকে রেখে বাজারে ঢোকেন তিনি। ছেলেকেও নিয়ে যান। বাবা-ছেলে ফিরে এসে দেখেন স্ত্রী নেই। এ দিক ও দিক খোঁজ করে না পাওয়ায় ভাঙড় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

    এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মীনাক্ষী রাস্তা পার হয়ে বেশ কিছুটা এগিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁকে ২১৩ নম্বর বাসে উঠতে দেখা যায়। ওই বাস ঘটকপুকুর থেকে কলকাতায় আসে।

    বাড়ি ফিরে মীনাক্ষী জানান, রবিবার বাসে করে কলকাতা আসেন। সেখান থেকে শিয়ালদহ পৌঁছে উঠে পড়েন ট্রেনে। পৌঁছে যান বালুরঘাট। কিন্তু সেখানে গিয়ে বার বারই ছেলের মুখ মনে পড়ছিল। যে ছেলেকে সর্বক্ষণ আগলে রাখেন, তাঁকে দেখতে না পেয়ে কান্নাকাটি করতে থাকেন স্টেশনে বসে। মীনাক্ষীর দাবি, সেই সময়ে রেল পুলিশ এসে তাঁর কাছে সবটা জানেন। মীনাক্ষীই পুলিশকে জানান, শিয়ালদহের ট্রেনে তুলে দিতে। সেই মতো তুলে দেয় বলেও দাবি তাঁর।

    পরিবারের বক্তব্য, যে হেতু মীনাক্ষী ডিপ্রেশনে ভোগেন, তাই চাপ দিয়ে এর থেকে বেশি কিছু জানা সম্ভব হচ্ছে না। আপাতত ঘরের মেয়ে ঘরে ফেরায় খুশি তারা।

  • Link to this news (এই সময়)