রক্ত নিয়ে বেনিয়মের অভিযোগে রাজ্যের একাধিক জেলায় ব্লাড ব্যাঙ্কে অভিযান চালালেন স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। অভিযোগ, রক্তদান শিবির থেকে গৃহীত বিপুল পরিমাণ রক্ত বেআইনি ভাবে ভিন রাজ্যে পাচার করা হচ্ছিল। এই অভিযোগেই হাওড়ার একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে অভিযান চালিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ হাজার ইউনিট রক্ত ও প্লাজমা পাচার করা হয়েছে হাওড়ার ওই ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে। তদন্তে নথিপত্র, রেজিস্টার, রক্ত সংগ্রহ ও সরবরাহের রেকর্ড খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিও বাজেয়াপ্ত করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
একই অভিযোগে, বর্ধমানের একটি ব্লাডব্যাঙ্কেও হানা দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের এক বিশেষ দল। বর্ধমানে কলকাতা-দিল্লি ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে অভিযান চালায় ওই দল। অভিযোগ, প্রয়োজনের অতিরিক্ত রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে রক্ত সংগ্রহ করে পাচার করা হচ্ছিল ওই ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে।
এর পাশাপাশি, অন্ডালের একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল আজ অভিযান চালায়। ব্লাড ব্যাঙ্কের নথি খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা।
অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে বেআইনি ভাবে ভিন রাজ্যে রক্ত পাচার করা হচ্ছিল। রাজ্যের সাতটি ব্লাড ব্যাঙ্ক নজরে ছিল তদন্তকারীদের। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে যে, এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে বিপুল পরিমাণ রক্ত বা প্লাজমা পাঠাতে গেলে ‘স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল’ এবং ‘ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল’—দু’টি সংস্থারই লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক। অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি সব নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মুনাফার লোভে ভিন রাজ্যে রক্ত পাচার করে যাচ্ছিল।
এই বিষয়ে তদন্ত করার জন্য দিন কয়েক আগে একটি কমিটিও গঠন করেছিল রাজ্য সরকার। অনুমান, এই পাচার চক্রের নেপথ্যে রাজ্য তথা রাজ্য বাইরের প্রভাবশালী কয়েকটি গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে। সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
FAQ
স্বাস্থ্য দপ্তর কেন ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে অভিযান চালিয়েছে?
নিয়ম ভেঙে বেআইনিভাবে ভিন রাজ্যে বিপুল পরিমাণ রক্ত ও প্লাজমা বিক্রি বা পাচার করার অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা এই অভিযান চালিয়েছেন।
মূলত কোন কোন জেলায় এই অভিযান চালানো হয়েছে?
হাওড়া এবং বর্ধমান জেলার বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে এই অভিযান চালানো হয়েছে (বর্ধমানের ব্লাড ব্যাঙ্কটি কলকাতা-দিল্লি ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত)।
হাওড়ার ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে কী পরিমাণ রক্ত পাচার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে?
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, হাওড়ার ওই বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ১০ হাজার ইউনিট রক্ত ও প্লাজমা ভিন রাজ্যে পাচার করা হয়েছে।
পাচারের উদ্দেশ্যে এই বিপুল পরিমাণ রক্ত কীভাবে সংগ্রহ করা হতো?
অভিযোগ অনুযায়ী, মুনাফার লোভে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে সেখান থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হতো এবং পরে তা পাচার করা হতো।
এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে রক্ত পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম কী?
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে বিপুল পরিমাণ রক্ত বা প্লাজমা পাঠাতে গেলে ‘স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল’ এবং ‘ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল’—এই দুটি সংস্থারই লিখিত অনুমতি থাকা বাধ্যতামূলক। অভিযুক্ত ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি এই নিয়ম মানেনি।
এই ঘটনার তদন্তে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
রাজ্য সরকার এই বিষয়ে তদন্ত করার জন্য কয়েকদিন আগে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। তদন্তকারীদের নজরে রাজ্যের মোট সাতটি ব্লাড ব্যাঙ্ক রয়েছে।
এই পাচার চক্রের পিছনে কাদের হাত থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে?
তদন্তকারীদের অনুমান, এই পাচার চক্রের নেপথ্যে রাজ্য তথা রাজ্যের বাইরের বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা বর্তমানে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।