জমি বিবাদের জেরে সুপারি কিলার ভাড়া করে তৃণমূল নেতা খুনের মামলায় সাত জনকে দোষী সাব্যস্ত করল হুগলির চুঁচুড়ার আদালত। কিন্তু তৃণমূল নেতা দিলীপ রাম খুনে মূল অভিযুক্ত সেই মাদক কারবারি শকুন্তলা যাদব ওরফে সমুন্দ্রী এবং তাঁর এক ছেলে এখনও পলাতক।
২০১৯ সালের ২৯ জুন সকাল ৯টা নাগাদ ট্রেন ধরতে ব্যান্ডেল স্টেশনে পৌঁছেছিলেন দিলীপ। তাঁর গন্তব্য ছিল নৈহাটির পিডব্লিউআই অফিস। অভিযোগ ওঠে, ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ওঠার সময়েই দিলীপকে গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনার পরেই নিহতের স্ত্রী তথা ব্যান্ডেল পঞ্চায়েতের তৎকালীন প্রধান ঋতু সিং স্থানীয় তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে প্রথমে তদন্তে নেমে ব্যান্ডেল জিআরপি। পরে তদন্তভার যায় চুঁচুড়া থানার হাতে। পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছিল দু’জনকে। আর এক জন আত্মসমর্পণ করেন। যদিও গোটা ঘটনায় তাঁদের জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ না মেলায় পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার পরেই তদন্তে উঠে আসে শকুন্তলার নাম।
পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, তিন লাখ টাকার সুপারি দিয়ে শকুন্তলাই দিলীপকে খুন করিয়েছেন। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তৃণমূল নেতাকে খুন করা হয়েছিল ব্যান্ডেল স্টেশনে। এর পরেই শকুন্তলার এক ছেলে মঙ্গল যাদব সহ-তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের জেরা করে আকবর নামে আর এক অভিযুক্তের নাম জানতে পারেন তদন্তকারীরা। এর পরে নাগপুর থেকে আকবকে ধরা হয়। পরে ধরা পড়ে আরও তিন জন। আদালত যাদের দোষী সাব্যস্ত করেছে, তারা হলো— মহম্মদ নাসিম ওরফে গুড্ডু, মহম্মদ মানু, মহম্মদ সানু, সাদ্দাম হোসেন, মঙ্গল যাদব, বৈজনাথ রায় ওরফে হেডেক এবং মহম্মদ আকবর।
মামলার সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘মোট ৩৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। যে গুলি চালিয়েছিল, সেই গুড্ডুর কাছ থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। সেই আগ্নেয়াস্ত্র থেকেই যে গুলি ছোড়া হয়েছিল, তার প্রমাণ মিলেছে পরীক্ষায়। মামলায় চার জন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। মোট ন’জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন তদন্তকারী অফিসার। তার মধ্যে সাত জনকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২-সহ একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন বিচারক কৌস্তভ মুখোপাধ্যায়। শকুন্তলা যাদব ও তার আর এক ছেলে আজ়াদ এখনও পলাতক।’