নাবালকদের অবিলম্বে মুক্তি এবং FIR-এ আপাতত কড়া পদক্ষেপ নয়; NEET আন্দোলনকারীদের বড় স্বস্তি
আজ তক | ২৮ জুলাই ২০২৬
দেশজুড়ে CJP-র আন্দোলন নিয়ে বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। আদালত সরকারকে জানিয়ে দিল, দেশজুড়ে হওয়া আন্দোলনের সময় গ্রেফতার বা আটক হওয়া ১৮ বছরের কম বয়সী সমস্ত ছাত্রছাত্রী এবং যাঁদের বিরুদ্ধে আগে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
আদালতের আরও অন্তর্বর্তী নির্দেশ, দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ বিভিন্ন রাজ্যে CJP-র নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া কোনও এফআইআর-এ আপাতত কোনও দণ্ডমূলক বা জোরপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি কেন্দ্র-সহ সাতটি রাজ্য সরকারকে নোটিস জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। কোন রাজ্যে কী হয়েছে, কেমন অশান্তি, কাদের কী ভূমিকা ছিল-এই সব নিয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে। সেই রাজ্যগুলির তালিকায় আছে পশ্চিমবঙ্গও।
আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে CJP-র আন্দোলন নিয়ে একাধিক মামলার শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চে আবেদনকারীরা জানান, বিষয়টি শুধু দিল্লির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মধ্যপ্রদেশ, নাগপুর এবং বিহারেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
এদিন শুনানির সময় আদালত পেলেট গান, ইলেকট্রিক ব্যাটন ব্যবহার, নাবালকদের আটক, সাদা পোশাকে পুলিশের হিংসা-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের উল্লেখ করে কড়া মন্তব্য করে। বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এই সব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, সব আবেদনেই কিছু অভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। পেলেট গানের আঘাতে ১৯ বছরের এক তরুণের দৃষ্টিশক্তি হারানোর অভিযোগ। ইলেকট্রিক ব্যাটন ব্যবহারের অভিযোগ। এক তরুণী গুরুতর আহত হয়ে আইসিইউতে ভর্তি। আইনজীবীদের উপর হামলা। এক সাংবাদিককে নির্মমভাবে মারধর। সাদা পোশাকে থাকা পুলিশকর্মীদের হিংসার অভিযোগ ইত্যাদি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সংবিধান সুরক্ষা ও স্বীকৃতি দেয়। তবে এ ধরনের আন্দোলনে অনেক সময় কিছু অনাহূত ব্যক্তি নিজেদের আলাদা উদ্দেশ্য নিয়ে ঢুকে পড়েন। তাঁরাই নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। তখনই বিপত্তি ঘটে। পুলিশের পরিবারের তরফেও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে বলেও জানান বিচারপতি।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণন আদালতে দাবি করেন, একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক ASI নিজেই একটি গাড়ির কাচ ভাঙছেন। তাঁর বক্তব্য, দায়বদ্ধতা শীর্ষস্তর পর্যন্ত নির্ধারণ করতে হবে, না হলে পুলিশের মধ্যে শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হবে। ইউনিফর্ম পরা বহু পুলিশকর্মীর গায়ে নেমপ্লেট না থাকার প্রসঙ্গও ওঠে শুনানিতে।
বিহারের ঘটনা
আইনজীবী শাদান ফরাসত জানান, বিহারে হিংসার মাত্রা দিল্লির থেকেও বেশি হয়েছে। বিহার সরকার এফআইআর প্রত্যাহারের দাবি করলেও এখনও ১৪০-র বেশি মানুষ আটক রয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশের বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। এমনকি ১৩ বছরের এক শিশুও আটক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আদালতের মন্তব্য
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, পুলিশকর্মীদের কাছে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম কেন ছিল না? তিনি বলেন, 'আক্রমণাত্মক সরঞ্জামের চেয়ে নিরাপত্তামূলক সরঞ্জাম অনেক বেশি জরুরি।' সবশেষে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, 'এই ঘটনাগুলির স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজন স্পষ্ট।' সেজন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি বা বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের বিষয়ে আদালত পদক্ষেপ করবে।